Saturday, 16 July 2011

অস্থির মসলার বাজার : এক মাসে পেঁয়াজের দর বেড়েছে ৪১ ভাগ আদার কেজি ৯০, হলুদ ২৮০ টাকা

















অর্থনৈতিক রিপোর্টার
রমজান মাস আসছে—এ সুযোগকে অন্যায়ভাবে কাজে লাগিয়ে গত সাতদিনে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত। আর এক মাসের হিসাবে মূল্যবৃদ্ধির হার ৪১ ভাগ। একই অবস্থা আদা, রসুন, হলুদ ও মরিচের। রাজধানীর খুচরা বাজারে গতকাল এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়। এক মাস আগেও পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ২৬ থেকে ৩০ টাকা। বিক্রেতাদের দাবি, রোজার কারণে চাহিদা বেড়ে গেছে, ফলে বাড়ছে দাম।সরকারি বাজার তদারকি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দেয়া গতকালের বাজার দর তথ্যে জানা গেছে, গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম ৪০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির হার ২৫ শতাংশ বলে জানিয়েছে টিসিবি। সংস্থার বাজার দর পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩২ থেকে ৩৪ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ২৮ থেকে ৩০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজারে গিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা কেজিতে। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৪ টাকা। তবে কারওয়ানবাজারের মূল্যের সঙ্গে হাতিরপুল বাজারের মূল্যে কেজিপ্রতি ২/৩ টাকা তফাত্ রয়েছে। কারওয়ানবাজার থেকে হাতিরপুল বাজারের দূরত্ব বেশি নয়, তারপরও কেন বাড়তি ২/৩ টাকা বেশি মূল্য? এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, কারওয়ানবাজারে পাইকারি মূল্যেই সাধারণত পণ্য বিক্রি হয়। এ কারণে দাম কিছুটা কম। তবে হাতিরপুল বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৮ থেকে ৩৯ টাকা কেজি দরে।এদিকে অস্থির আদা-রসুনের বাজার। টিসিবির বাজার দর তথ্যে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুনের দাম ৭৫ থেকে ৯০ টাকা। তবে গতকাল হাতিরপুল বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, এক কেজি দেশি রসুনের দাম ৯৬ থেকে ১০২ টাকা। টিসিবির দাবি অনুযায়ী, রসুনের দাম কয়েকদিন ধরেই স্থিতিশীল। বাস্তবে দেখা গেছে, গত সাত দিনে প্রতি কেজি রসুনের দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত। এ বিষয়ে টিসিবির প্রধান কর্মকর্তা (সিএমএস ও এসএন্ডডি) রফিকুল ইসলাম জানান, আমদানি করা রসুনের দাম গত ৩ জুলাই সামান্য হ্রাস পায়।ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি ব্যয় বাড়ায় রসুনের দাম বেড়েছে। দেশি রসুনের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে অনেক ব্যবসায়ী বলেন, একশ্রেণীর মজুতদার, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীর কারসাজিতেই ধাপে ধাপে রসুনের দাম বেড়েছে। টিসিবি জানিয়েছে, রাজধানীর বাজারে গত এক মাসে আদার দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশনের অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর তথ্যমতে, এক মাসে আদার দাম গড়ে প্রায় ১৮ ভাগ বেড়েছে। গতকাল কারওয়ানবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। তবে দেশি আদার দাম প্রতি কেজি ৯৫ টাকা। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার দিন বাজারে প্রতি কেজি আদার দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা ছিল বলে জানিয়েছে টিসিবি। সেই হিসাবে আদার দাম বর্তমানে দ্বিগুণ।এক কেজি হলুদের দাম এখন ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। টিসিবি অবশ্য জানিয়েছে, ২৬০ টাকা দরেও বাজারে হলুদ বিক্রি হচ্ছে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি টিসিবির বাজার দর তথ্যে হলুদের দাম উল্লেখ করা হয় ৯৫ থেকে ১১০ টাকা। বর্তমান সরকারের গত আড়াই বছরে হলুদের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৭৫ টাকা।
শুধু পেঁয়াজ, রসুন, আদাই নয়, বর্তমান সরকারের গত আড়াই বছরে শুকনা মরিচ, জিরা, ধনিয়া, এলাচ, দারুচিনিসহ সব ধরনের মসলার দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

Wednesday, 29 June 2011

তিন বছরে পিপিপি : বাস্তবায়ন শূন্য বরাদ্দ ৮ হাজার কোটি টাকা

সৈয়দ মিজানুর রহমান
বাজেটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় বিনিয়োগের ব্যাপক আশাবাদ প্রচার করা হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে পিপিপি নামে ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। চলতি ২০১০-২০১১ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ আছে ৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে এই খাতে আবারও ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের হার শূন্য। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পর পর দু’টি বাজেট বক্তৃতায় পিপিপিকে নতুন খাত হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার পিপিপিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে বরাদ্দ রাখলেও, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ধারণা দেয়া হচ্ছে না। বাজেটের বরাদ্দ কোত্থেকে কিভাবে খরচ হবে তাও বলা হচ্ছে না। এ বিষয়ে এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী গতকাল আমার দেশকে বলেন, পিপিপি যে একেবারে নতুন ধারণা তা ঠিক না। বহু আগে থেকেই পিপিপি’র মাধ্যমে কাজ হয়ে আসছে। তবে বাজেটে যে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে তা নতুন। বাজেটে আগে পিপিপি নামে আলাদা কোনো খাত ছিল না। গত অর্থবছরেই আলাদা খাত হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়।’ কেন পিপিপিতে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া নেই, বরাদ্দের এক টাকাও কেন খরচ হয়নি জানতে চাইলে সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘এটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে। সঠিক নির্দেশনা নেই। ব্যবসায়ীরা জানেন না কিভাবে এই খাতে রাখা বরাদ্দ থেকে টাকা পাওয়া যাবে।’অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিখাতকে নিম্ন বা বিনা সুদে ঋণ অথবা মূলধন সহায়তা হিসেবে দেয়ার জন্য পিপিপি খাতে আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থেকে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠন করার কথা ছিল। এছাড়া স্কুল, হাসপাতাল ইত্যাদি নির্মাণে সহায়তার জন্য ৩০০ কোটি টাকার একটি মূলধন গঠনের কথা ছিল। তবে ২০১০-২০১১ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, পিপিপির এই বরাদ্দ খরচ করা যায়নি। তার পরও তিনি ২০১০-২০১১ অর্থবছরে বাজেটে পিপিপিতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। তবে অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসে একটি টাকাও খরচ করা যায়নি এই খাত থেকে। এরই মধ্যে ২০১১-২০১২ অর্থবছরের বাজেটে পিপিপিতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাজেটে পিপিপিতে ২৩টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিদ্যুত্ খাতে সিরাজগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩২০, মেঘনা ঘাটে ৪৫০, সিদ্ধিরগঞ্জে ৩০০-৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট। এছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ এবং পরিবহন খাতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ভৌত পরিকল্পনা খাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় মার্কেট নির্মাণ, পার্ক উন্নয়ন এবং নতুন আবাসিক এলাকা নির্মাণ, বরিশালে বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়াম নির্মাণ। স্বাস্থ্য খাতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জন্য এম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা এবং বড় হাসপাতালগুলোতে অটোমেশন সার্ভিস প্রবর্তন প্রকল্প।
আগামী অর্থবছরের এডিপিতে আবারও পিপিপির আওতায় ১৬টি প্রকল্প যোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্প ধরা হয়েছে রাজধানীর আশপাশে তিনটি স্যাটেলাইট শহর নির্মাণে। ১৩টি প্রকল্প ঠিক করা হয়েছে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে। এগুলোর মধ্যে আছে চট্টগ্রামে এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ-বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সৌরবিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, খুলনায় ২১০ মেগাওয়াট তাপ-বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, ময়মনসিংহে ৩৬০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প ও ডিপিডিসির সাব-স্টেশন নির্মাণ।

Tuesday, 31 May 2011

পরীক্ষা ছাড়াই ৬৪ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ হচ্ছে









এম এ নোমান
কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই শুধুমাত্র দলীয় বিবেচনায় মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর, পরিদফতর ও সরকারের অন্য সংস্থাগুলোতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা পদমর্যাদায় ৬৪ হাজার লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এমনকি স্বাস্থ্য পরীক্ষারও প্রয়োজন হবে না। এডহকভিত্তিক নিযুক্ত কর্মচারী নিয়মিতকরণ বিধিমালা সংশোধন করে পিএসসির মাধ্যমে পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি স্থায়ীকরণেরও সুপারিশ করে ইতোমধ্যে এর খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১ জুন অনুষ্ঠেয় সচিব কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন হতে পারে। এ বিধিমালা সংশোধন প্রস্তাব তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর, পরিদফতরসহ সরকারের অন্য সংস্থাগুলোতে দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রথম শ্রেণীর সহকারী পরিচালকের পদ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে ৬৪ হাজার লোক নিয়োগের একটি চাহিদাপত্রও তৈরি করা হয়েছে। এসব পদে এডহকভিত্তিতে লোক নিয়োগের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অন্য মন্ত্রণালয়গুলো এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সরকারি কর্মকমিশনকে (পিএসসি) পাশ কাটিয়ে এডহকভিত্তিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হলে দেশের বর্তমান প্রশাসন আরও মেধাহীন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন সাবেক সচিব ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এমনিতেই আমাদের দেশের প্রশাসন আন্তর্জাতিক মানের নয়। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। এখন আবার কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই ছাড়া শুধুমাত্র দলীয় পরিচয়ে নিয়োগ দিলে এদের দিয়ে সরকারের দলীয় উদ্দেশ্য হয়তো সফল হবে, কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি ছাড়া কল্যাণ হবে না। তারা বলেন, বিএসএস পরীক্ষায় অংশ নেয়া হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী বেকার পড়ে আছে। এরই মধ্যে ৬৪ হাজার পদ দলীয় লোকদের দিয়ে পূরণ করা হলে স্বাভাবিকভাবে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তীব্র হতাশার সৃষ্টি করবে। ১৯৭৩ সালে পিএসপিকে বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনায় এডহকভিত্তিতে মেধাহীনদের নিয়োগের ফলে সৃষ্ট বোঝা প্রশাসনকে দীর্ঘদিন বহন করতে হয়েছে। এবারের বোঝা কতদিন টানতে হতে পারে সেটা কেউ বলতে পারবে না।
জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে যে, প্রশাসনকে গতিশীল, দক্ষ ও মেধাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে এডহকভিত্তিক নিযুক্ত কর্মচারী নিয়মিতকরণ বিধিমালা সংশোধন করে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর ও পরিদফতরসহ অন্য সংস্থাগুলোতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের এডহকভিত্তিক নিয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালের ১৫ জুলাই এক বৈঠকের মাধ্যমে এডহক ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়গুলোর অধীন
অন্যান্য বিভাগ ও সংস্থায় শূন্য পদের একটি তালিকা করা হয়। এতে দেখা যায় যে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী পদমর্যাদার ৬৪ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। এ পদগুলোতে লোকবল নিয়োগের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। এ প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য আগামী ১ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে সচিব কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব : অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, শুধুমাত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ই নয়, এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ও একইভাবে চিকিত্সকদের নিয়োগ দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষেত্রে যুক্তি পেশ করে বলা হয়েছে, গত ২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এক পত্রের মাধ্যমে এডহকভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের চাকরি নিয়মিতকরণ এবং তাদেরকে ক্যাডারভুক্তির লক্ষ্যে এডহকভিত্তিক নিযুক্ত কর্মচারী নিয়মিতকরণ বিধিমালা ১৯৯৪ সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। ইতোমধ্যেই তারা এডহকভিত্তিতে ৩৫৫১ জন ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছে এবং আরও ৫৮২ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যদিও দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে ১৯৯৪ সালে বিধিমালার ৮নং ধারার আলোকে সরকারের রাজস্ব বাজেটের পদে এডহকভিত্তিক লোক নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে বাস্তবতার নিরিখে আবশ্যিক হওয়ায় ২০০৯ সালের ১৫ জুলাই বিধিমালার ৮নং ধারা বিলুপ্ত করা হয়। ফলে বর্তমানে রাজস্ব বাজেটের পদে এডহকভিত্তিতে নিয়োগে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বিদ্যমান বিধিমালার আলোকে ১৯৯৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে নিয়োগপ্রাপ্তদেরই নিয়মিত করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে যেসব কর্মকর্তা এডহকভিত্তিক নিয়োগ পাবেন তাদের নিয়মিত করার সুযোগ নেই। কাজেই নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি নিয়মিত করতে হলে বিদ্যমান বিধিমালাটিও সংশোধন করতে হবে। প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (কনসালটেশন) রেগুলেশন, ১৯৭৯ অনুযায়ী শুধুমাত্র পিএসসির আওতাভুক্ত ১ম ও ২য় শ্রেণীর পদে পিএসসি’র অনুমোদন সাপেক্ষে এডহকভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা যায়। শুধুমাত্র এসব পদে এডহক নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়মিতকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিষয়টি সংশোধিত বিধিমালায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পিএসসি’র অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্তৃপক্ষ বিধিবহির্ভূতভাবে এডহক নিয়োগ দিলে সেটা বৈধ করতে হলেও বিধিমালার আওতাভুক্ত করতে হবে। সচিব কমিটিতে অনুমোদনের জন্য প্রস্তুতকৃত এ প্রস্তাবের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, এ সংশোধনী অনুমোদন হলে পিএসসির অনুমোদন ছাড়াই যে কোনো মন্ত্রণালয় কিংবা এর অধীন অন্যান্য বিভাগ ও অধিদফতর-পরিদফতরে এডহকভিত্তিতে ১ম ও ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া যাবে। নিয়োগ কর্তৃপক্ষ পিএসসির অনুমোদন নিয়ে তাদের চাকরি নিয়মিত করবেন। মূলত এর মাধ্যমে বর্তমানে শূন্য ও নতুনভাবে সৃষ্ট ৬৪ হাজার পদে ১ম ও ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের উত্কণ্ঠা : এডহকভিত্তিক নিয়োগের বিরোধিতা করে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান আমার দেশকে বলেন, পিএসসি’র মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তারা নিযুক্ত হবেন এটাই হচ্ছে স্বীকৃত রীতি। স্বচ্ছতা ও মেধাবীদের মূল্যায়নের স্বার্থেই এ রীতি মানতে হয়। এডহক নিয়োগের পক্ষে সরকার যত যুক্তিই দেখাক না কেন, এ নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
এডহকভিত্তিতে ১ম ও ২য় শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ হলে দেশের গোটা প্রশাসনিক অবস্থা আরও ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রশাসন বিশ্লেষক এএসএম আবদুল হালিম আমার দেশকে বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের প্রশাসনিক অবস্থা সুস্থ নয়। রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি আর দলীয় মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্যে চেইন অব কমান্ড নেই প্রশাসনের কোনো ক্ষেত্রেই। তার পরেও পিএসসির মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারা নিযুক্ত হওয়ায় তাদের প্রতি মানুষের বিন্দুমাত্র হলেও আস্থা ও ভরসা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এডহকভিত্তিতে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের নিয়োগের যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে, সেটা হলে তো দেশে প্রশাসন বলতে কিছুই থাকবে না। এমনিতেই আমাদের প্রশাসন বর্তমানে মেধাহীন প্রশাসন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এর ওপর কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই দলীয় লোকদের নিয়োগ দিলে দেশের বড় ধরনের সর্বনাশ হবে। দলীয় পরিচয়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের নির্যাতনের শিকার হবেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের এডহকভিত্তিতে নিয়োগের উদ্যোগ মনে হয় এটাই প্রথম। বর্তমানে পিএসসিকে পাশ কাটিয়ে তড়িঘড়ি করে হাজার হাজার পদে দলীয় লোকদের নিয়োগের চেষ্টা সত্যিকারের মেধাবীদের বিক্ষুব্ধ ও হতাশ করে তুলবে। সরকারের মন্ত্রীরাও প্রায়ই বলেন, বর্তমান সরকারের সময় আওয়ামী লীগের দলীয় লোক ছাড়া অন্যদের চাকরি দেয়া হবে না। এটা দেশের জন্য অকল্যাণ ছাড়া কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। ইতোমধ্যেই মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত প্রায় সাড়ে ৫শ’ কর্মকর্তাকে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। এখন আবার এডহকভিত্তিক কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে সেটা হবে প্রশাসনকে দলীয়করণের ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রক্রিয়া।
সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান আমার দেশকে বলেন, প্রশাসনকে দলীয়করণের মাধ্যমে সব সরকারই রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে থাকে। কোনো সরকার একটু বেশি করে আবার কোনো সরকার একটু কম করে। জোট সরকারের চেয়ে মহাজোট সরকারের আকার বড় তাই তারা একটু বেশিই করছে। তবে পিএসসিকে পাশ কাটিয়ে ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের এ উদ্যোগ নজিরবিহীন। এটা প্রশাসনকে মেধাহীন করে ফেলবে। পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ হলে অন্ততপক্ষে মেধাবীরা প্রশাসনে আসার সুযোগ পায়। আর এডহকভিত্তিতে নিয়োগ হলে মেধাহীন দলবাজরাই নিযুক্ত হবে। এটা নিয়ে রাখঢাকের কিছু নেই। কোনো কোনো মন্ত্রী বলেছেন, তারা দলীয়ভিত্তিতেই লোকবল নিয়োগ দেবেন। তারা মেধাবীদের কথা বলেননি। বদিউর রহমান বলেন, ১৯৭৩ সালে একবার পিএসসিকে পাশ কাটিয়ে তড়িঘড়ি করে মেধাহীনদের দলীয় বিবেচনায় প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। সেই বোঝা দেশ বহু বছর টেনেছে। একইভাবে এবারও এডহকভিত্তিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এটা কোনো অবস্থায়ই সমর্থনযোগ্য নয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আমার দেশকে বলেন, প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য স্বীকৃত পন্থা রয়েছে। পিএসপির মাধ্যমে নিয়োগ হলে দক্ষ, যোগ্য ও কর্মঠরাই নিয়োগ পান। কিন্তু পিএসসিকে পাশ কাটিয়ে কোনো ধরনের পরীক্ষা ও যোগ্যতার যাচাই ছাড়াই দলীয়ভাবে লোক নিয়োগ করা হলে প্রশাসন আরও মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। প্রশাসনে দলীয়করণের নিকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি হবে। এটার বিরুদ্ধে বিবেকবান সকলেরই সোচ্চার হওয়া উচিত।

ইউপি নির্বাচন : কমিশনে অভিযোগের স্তূপ : ক্ষমতাসীনদের দাপটে অসহায় ভিন্নমতাবলম্বী প্রার্থীরা

কাজী জেবেল

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে প্রতিদিন অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে অভিযোগের স্তূপ ততই বাড়ছে। বেশিরভাগ অভিযোগে ক্ষমতাসীনদের দাপটে বিরোধীদলীয় সমর্থক এবং স্থানীয় এমপির সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হতে আগ্রহীরা নির্বাচনী কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না বলে জানানো হয়েছে। চিঠিতে নির্বাচনী এলাকায় ক্ষমতাসীনদের অপতত্পরতা, সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, প্রার্থী হতে বাধা দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ এমপিদের বাধায় প্রার্থী হতে পারছেন না জানিয়ে কমিশনের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন। ক্ষমতাসীনদের বাধায় অনেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না—এমন আশঙ্কা জানিয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে দাখিল করার সুযোগ দিতে কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি উঠেছে। এ অবস্থায় আজ কমিশন সচিবালয়ে নির্বাচনী জেলার ডিসি ও এসপিদের সঙ্গে বৈঠকে করা হবে। বৈঠকে নির্বাচনী পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে। খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রের।
কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন ডাক ও ফ্যাক্সযোগে অসংখ্য অভিযোগ আসছে। সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী ও তাদের অনুসারিরা সরাসরি কমিশনে এসে অভিযোগ জানিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে ফোন করেও অভিযোগ করছেন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের বাইরে থাকায় আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। আমার হাতে অভিযোগ আসার পর মন্তব্য করব।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে কমিশনে অভিযোগের সংখ্যা ততই বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসছে চট্টগ্রাম অঞ্চল, যশোর, কুষ্টিয়া, মুন্সীগঞ্জ, নওগাঁ, গাইবান্ধা জেলা থেকে। এক অভিযোগে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম-৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী প্রতিটি ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাই করে দিচ্ছেন। এসব প্রার্থীর বাইরে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দল থেকে কাউকে প্রার্থী হতে বাধা দিচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি রাউজান উপজেলার ছয়জন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনের সঙ্গে দেখা করে একই অভিযোগ করেছেন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মিরপুর, খোকসা, যশোরের শার্শা, অভয়নগর, মনিরামপুর, ঝিনাইদহ, শৈলকূপা থেকে আসা অভিযোগগুলোতে বলা হয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে সরকারদলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে চরমপন্থী সংগঠনের সদস্যরা সংগঠিত হচ্ছে। তারা আতঙ্ক ছড়াতে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। দেশের অন্য স্থান থেকে আসা কয়েকটি অভিযোগে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যরা মিটিং করে দলীয় প্রার্থী ঠিক করে দিচ্ছেন। বিদ্রোহী বা বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা যাতে নির্বাচন না করেন সেজন্য শাসিয়ে দেন তারা। এসব অভিযোগে প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না আশঙ্কা করে বিকল্প পদ্ধতিতে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সুযোগ দিতে কমিশনের কাছে আবেদন জানান। এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় সন্ত্রাসীদের তত্পরতা নিয়ে অভিযোগ আসছে। রাউজানের ২নং ডাবুয়া ইউপি থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দেয়া এক চিঠিতে বলা হয়, চিহ্নিত সন্ত্রাসী নাজিমউদ্দিন ওরফে ওরলী নাজিম, জাহাঙ্গীর ওরফে লাল জাহাঙ্গীর, কালা জাহাঙ্গীর, মো. আলী ওরফে আইল্যা, আবদুর রশীদ ওরফে রইশ্যা এলাকায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছে। তারা অন্য প্রার্থী ও সমর্থকদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। ৯নং পাহাড়তলী ইউপি থেকে সিইসি বরাবরে দেয়া অপর একটি আবেদনে বলা হয়, দেশে বা বিদেশে আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীরা নির্বাচন উপলক্ষে এলাকায় জড়ো হয়েছে।
এসব চিঠিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় প্রচুর সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, অস্ত্র উদ্ধার ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

Tuesday, 26 April 2011

দলবাজিতে প্রশাসন গতিহীন : কর্মকর্তারা দিনের প্রথমভাগ ব্যয় করেন শেয়ার ব্যবসা নিয়ে বার বার আদেশ জারি করেও কাজ হচ্ছে না

কাদের গনি চৌধুরী

প্রশাসন চলছে ঢিমেতালে। বার বার আদেশ জারি করেও সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে মনোযোগী করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি কাজে গতি আসছে না দেখে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বার বার তাগিদ দেয়া হয়। কেবিনেট সেক্রেটারি ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্রও জারি করা হয়। এর পরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সরকারের বিভিন্ন মহলে আলাপ করে জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সৃষ্ট আতঙ্ক, মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্য নতুন হওয়ায়, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় না থাকায়, মন্ত্রী ও সচিবের মধ্যে দ্বন্দ্ব, দক্ষ কর্মকর্তাদের ওএসডি করে কর্মহীন বসিয়ে রাখা, দলীয় বিবেচনায় অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, জুনিয়রদের পদোন্নতি দিয়ে সিনিয়রদের পদে বসানোর কারণে প্রশাসনে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় কাজকর্মে গতি আসছে না। সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, কট্টর সরকারসমর্থক অফিসাররাও মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে না। তারা সরকারি কাজের চেয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। দিনের প্রথমভাগ তারা ব্যয় করেন শেয়ার ব্যবসা নিয়ে। যার ফলে কাজে গতি আসছে না।
সরকারি কাজে গতি না আসায় প্রধানমন্ত্রীর দফতরও অসন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক এবং এর আগে জাতীয় সংসদের বাজেট বক্তৃতায় প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন। খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, সরকারে বয়স দুই বছর পার হলেও এখনও উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের সমন্বয় নেই। সব সিদ্ধান্তের জন্য সবাই তাকিয়ে থাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে। সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বেশিরভাগ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর অনভিজ্ঞতার কারণে মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি আসছে না। এছাড়া প্রশাসনিক অস্থিরতা ও ভীতিও রয়েছে। ফাইল সই করতে সবাই ভয় পায়। সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কেউ কেউ কোনো বিষয়ে একা সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। স্পর্শকাতর কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন হলে মন্ত্রী সচিবের ওপর চাপিয়ে দেন, আবার সচিব এতে রাজি না হলে প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হচ্ছেন। গত দু’বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি অনেক আমলাও গ্রেফতার হয়েছেন। তাই ভবিষ্যতের আতঙ্কে সচিব থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনেকে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের ধীরগতি দেখে প্রতিটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি কাজে গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবকে এ ব্যাপারে চিঠিও দেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গণমুখী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও মন্ত্রণালয়গুলো তা যথাযথভাবে দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে না। এর ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে, সমস্যা সমাধানে এবং যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণে অহেতুক বিলম্ব হচ্ছে। সেখানে আরও বলা হয়, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অহেতুক বিলম্ব ঘটায় তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
সূত্র জানায়, প্রশাসনিক এ ধীরগতির কারণে সেবাপ্রার্থীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা অনভিজ্ঞ হওয়ায় এ সুযোগ গ্রহণ করছেন সচিবালয় কর্মকর্তারা। ফাইল নিষমত্তির ক্ষেত্রে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন এ কর্মকর্তারা। সেবাপ্রার্থীকে ফাইলের পেছনে না ছুটলে কাজ হয় না। তদবির না করলে হয় ফাইল থেমে যায়, নতুবা ফাইল গায়েব করে দেয়া হয়। অনেক সময় কোনো অজুহাত না পেলে ফাইল থেকে জরুরি কাগজ সরিয়ে ফেলা হয়। অধিদফতর কিংবা দফতরে নিষমত্তিযোগ্য ফাইল মন্ত্রণালয়ে চলে এলে ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়ে। মন্ত্রী এবং সচিবের মধ্যে বিরোধের কারণেও সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সমস্যার সমাধান এবং যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের মধ্যে বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন এখানে ঠিকমতো কাজ হয়নি। অবশ্য মাসখানেক আগে সচিব শফিক আলম মেহেদীকে বদলি করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনকে গতিশীল করতে নির্দেশনা দেয়া হয় যে, শাখা প্রধানরা ৭২ ঘণ্টা, উপ-সচিবরা ৪৮ ঘণ্টা এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টায় ফাইল নিষমত্তি হতে হবে। কিন্তু এসব নিয়ম-কানুন মেনে ফাইল নিষমত্তি হচ্ছে না।
গত বছরের ১৪ নভেম্বর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কাজের ব্যাপারে সরকারি কর্মকর্তাদের অনীহার বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, অনিষমন্ন কাজের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আনা হচ্ছে না। তবে হাতেগোনা কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের নিয়মে কাজ করে যাচ্ছে সঠিক সময়ে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পদোন্নতি ও পোস্টিংবঞ্চিত কর্মকর্তাদের আলোচনা-সমালোচনা করে দিন কাটাতে। সম্প্রতি সরকার যুগ্ম সচিব পদে বড় ধরনের পদোন্নতি দেয়। তা সত্ত্বেও বঞ্চিতদের সংখ্যা এখনও বেশি। যারা পদোন্নতি পেয়েছেন, তারা এখনও পোস্টিং পাননি। ফলে তাদের আগের জায়গায় কাজ করার ব্যাপারে বেশ কিছুটা অনীহা রয়েছে। তবে কোনো কোনো কর্মকর্তা নিজের তাগিদে আগের স্থানে কাজ করলেও মন নেই কাজে।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব এক চিঠিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফাইল নিষমত্তি করতে সকল সচিবকে লিখিত নির্দেশ দেন। এতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফাইল নিষমত্তি না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদের এই নির্দেশের পরও সচিবালয়ে নির্দেশিকা মানা হচ্ছে না ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন অধিদফতর ও বোর্ডে ফাইলের স্তূপ জমছে। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আবেদন ও অন্যান্য সমস্যা মাসের পর মাস এমনকি বছরেও সুরাহা হচ্ছে না। শিক্ষক-কর্মচারীদের সমস্যা দেখভালের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরে কোনো মনিটরিং সেল নেই। সূত্র জানায়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শিক্ষক-কর্মচারীদের পদোন্নতি, বদলি, টাইমস্কেল, এমপিওভুক্তি’র আবেদনসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন প্রায় তিন শতাধিক আবেদন ও অভিযোগ নথিভুক্ত হচ্ছে; কিন্তু সাধারণ আবেদন, তদবির ও অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয় না। প্রভাবশালীদের অনৈতিক তদবির, অভিযোগ ও ফরমায়েশি কাজ নিষমত্তি করতেই মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেশিরভাগ সময় কেটে যায়।
সরজমিনে মাউশি’তে ঘুরে দেখা যায়, মহাপরিচালক ও পরিচালক ছাড়া বিভিন্ন দফতরে ফাইলের স্তূপ জমে আছে। ফাইল গতিশীল করার জন্য শত শত শিক্ষক প্রতিদিন মাউশিতে আসছেন। জমে থাকা ফাইল নিষমত্তির বিষয়ে সংস্থার মহাপরিচালক এবং স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা শাখার পরিচালকরা নিয়মিত সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখলেও কার্যক্রম এগুচ্ছে না। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়েও একই অবস্থা বিরাজ করছে। মন্ত্রী-সচিব-সংসদীয় কমিটির বিরোধের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে এ মন্ত্রণালয়ের কাজে কোনো গতি ছিল না। গত মাসে সচিবকে সরিয়ে দেয়ার পর কাজে কিছুটা গতি এসেছে বলে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি না থাকায় গত ৫ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই বৈঠকে তিনি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সার্বিক অর্থনীতির অবস্থা মন্ত্রিসভাকে জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হার বৃদ্ধি, রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়া, তারল্য নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে বলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানান।
এ বৈঠকের পর পরই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম অর্থ মন্ত্রণালয়ের সব ক’টি অনুবিভাগ/অধিশাখা/শাখায় চিঠি দিয়ে সমন্বয়কারী কর্মকর্তাদের আরও প্রো-অ্যাক্টিভ ভূমিকা রেখে শাখার কাজের সুষ্ঠু ও কার্যকর সমন্বয় সাধন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনে গতি আনতে তৃণমূল পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে ‘লেস পেপার অফিস’ প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল স্বাক্ষর চালু এবং ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে কেনাকাটার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রী-সচিবদের সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পর্যন্ত একটি চেইন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকে একেবারে উপজেলা প্রশাসন পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনার ক্ষেত্রে ই-মেইল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে ডিসি এবং ইউএনওরা যাতে একসঙ্গে সবাই পেয়ে যান, সে উদ্দেশ্যে এসব অফিসের জন্য ই-মেইল অ্যাকাউন্টও খুলে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ডিজিটাল স্বাক্ষর চালু হলে এসব নির্দেশনার নির্ভরযোগ্যতা অনেক বাড়বে। আর মুহূর্তেই অফিসিয়াল নির্দেশনা পৌঁছে যাওয়ার কারণে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও হবে দ্রুত। এক্ষেত্রে ডিসি এবং ইউএনওদের প্রশিক্ষিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালy.

চালের দাম ৫ বছরে বেড়ে দ্বিগুণের বেশি














জাহেদ চৌধুরী
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগের দিন ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি স্বর্ণা ও চায়না ইরি জাতের যে মোটা চালের কেজি ছিল ২৭ টাকা, গতকালের বাজারে তা বিকিয়েছে ৩৬ টাকায়। একই সময়ের ব্যবধানে নাজিরশাইল ও মিনিকেটের মতো সরু চালের দাম ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে গতকালের বাজারে বিকিয়েছে ৫২ টাকা কেজি দরে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি’র তথ্যে চালের মূল্যবৃদ্ধির এ পরিসংখ্যান রয়েছে। আর আজ থেকে ঠিক ৫ বছর আগে ২০০৬ সালের ৭ এপ্রিল মোটা চাল বলে পরিচিত স্বর্ণা ও চায়না ইরির দাম ছিল ১৭ টাকা কেজি। আর উন্নতমানের নাজির ও মিনিকেট চালের কেজি ছিল ২২ টাকা। চালের বাজারদর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৫ বছরে চালের দাম দ্বিগুণেরও বেশি প্রায় আড়াইগুণ বেড়েছে। সরকারি হিসাবের বাইরে গতকাল সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাজারে দুর্গন্ধমুক্ত মোটা চাল ৩৭/৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের মিনিকেট ও নাজিরশাইল ৫৮ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত মিনিকেট ৬০ টাকা কেজিও আছে। টিসিবির হিসাবে উন্নতমানের নাজির ও মিনিকেট চাল গতকাল বিকিয়েছে ৫২ টাকা দরে, যা এক মাস আগেও একই দাম ছিল। এক বছর আগে ছিল ৪৪ টাকা কেজি। ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মাঝখানে মোটা চালের দাম বেড়ে ২০০৮ সালে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও ওই সরকার বিদায় নেয়ার আগেই দাম অনেক কমে। তারা ক্ষমতা ছাড়ার দিন ২৭ টাকা কেজিতে দাঁড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় দাম কমে ২০০৯ সালের শেষদিকে মোটা চালের কেজি ২২ টাকায় পৌঁছলেও সরকারের বছর না ঘুরতেই দাম বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তা জরুরি শাসনামলকেও ছাড়িয়ে যায়। একইভাবে বর্তমান সরকারের আমলে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাঝারি ও সরু চালের দাম। চালের পাশাপাশি জরুরি নিত্যপণ্য হিসেবে ঘোষিত সব পণ্যের দামই বর্তমান সরকারের আমলে অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর দেয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের প্রথম দুই বছরে জরুরি নিত্যপণ্যের দাম সর্বনিম্ন ৩২ থেকে সর্বোচ্চ ৪৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
টিসিবি’র তথ্যে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ঢাকার বাজারে মোটা চাল ৩৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। যারা নিয়মিত বাজার করেন তারা জানিয়েছেন, ওই সময় মোটা চালের কেজি ৪০ টাকায় পৌঁছে ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩১ মার্চ গফরগাঁওয়ে এক জনসভায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে চালের কেজি ৪০ টাকা, বিএনপি থাকলে ৯০ টাকা হতো। নির্বাচনের আগে ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতির কথা তিনি বেমালুম অস্বীকার করে চলেছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রতিশ্রুতির ভিডিওচিত্র, একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট এরই মধ্যে পুনঃপ্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে, তাতে তার ওই বক্তব্যের প্রমাণ রয়েছে।
গত ৬ মার্চ বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান জাতীয় সংসদে বিএনপিদলীয় এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে (বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের মাসে) মোটা চালের কেজি ছিল ২৪ থেকে ৩০ টাকা। ২০১০-এর জানুয়ারিতে ছিল ২৫ থেকে ২৮ টাকা এবং ২০১১ সালের জানুয়ারিতে হয়েছে ৩৪ থেকে ৩৭ টাকা কেজি। তিনি জানান, দুই বছরের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে শতকরা ৩১ দশমিক ৪৮ ভাগ। বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদে আরও জানান, ২০০৯ সালে সরু চালের কেজি ছিল ৩২ থেকে ৪২ টাকা, ২০১০-এ ছিল ৩১ থেকে ৪৫ টাকা, ২০১১ সালে তা ৩৮ থেকে ৫০ টাকায় পৌঁছায়। মন্ত্রীর তথ্য মতে, দুই বছরে সরু চালের দাম বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। সংসদে দেয়া বাণিজ্যমন্ত্রীর তথ্যমতে, বর্তমান সরকারের প্রথম দুই বছরে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে সর্বনিম্ন ৩২ থেকে সর্বোচ্চ ৪৩৫ শতাংশ পর্যন্ত। এর মধ্যে রসুন ও হলুদের দাম সর্বোচ্চ বেড়েছে বলে তার দেয়া তথ্যে জানা যায়।
টিসিবি’র বাজারদর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্বর্ণা ও চায়না ইরি জাতের প্রতি কেজি মোটা চাল গতকাল ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঠিক এক মাস আগে এই চাল ছিল ৩৭ টাকা এবং ঠিক এক বছর আগে ২৮ টাকা। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এই চালের দাম টিসিবির হিসাবে ২৭ টাকা থাকলেও সেদিন ২৪ টাকা কেজিতেও মোটা চাল বাজারে বিক্রি হয়েছে বলে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে। প্রথম আলো ও আমার দেশ-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি খুলনায় ২৪ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি হয়েছে। আর বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন ৭ জানুয়ারি নওগাঁর পাইকারি বাজারে চালের দাম বিশ্লেষণে দেখা যায় ওইদিন প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ছিল ২১ টাকা ৪৪ পয়সা থেকে ২১ টাকা ৯৭ পয়সা।
অন্যদিকে আজ থেকে ঠিক ৫ বছর আগে ২০০৬ সালের ৭ এপ্রিল (খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের শাসনামলের শেষ বছরে) দৈনিক ইত্তেফাক ও প্রথম আলো পত্রিকায় টিসিবি ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে চালসহ নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম আলোর ওইদিনের রিপোর্টে দেখা যায়, ওইদিন বাদামতলী ও বাবুবাজারে স্বর্ণা জাতের মোটা চাল ৬০০ টাকা মণ দরে, পারি জাতের মোটা চাল ৬৩০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। আর মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকা মণ দরে। নাজিরশাইল মানভেদে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা মণ দরে। ৪০ কেজির হিসাবে ধরলে স্বর্ণার দাম দাঁড়ায় প্রতি কেজি মাত্র ১৫ টাকা, পারির কেজি ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা, মিনিকেট ২২ টাকা ৫০ পয়সা এবং নাজিরশাইল মানভেদে সাড়ে ১৭ টাকা থেকে ২১ টাকা ২৫ পয়সা। অন্যদিকে ২০০৬ সালের ৭ এপ্রিলের ইত্তেফাকে বলা হয়েছে ঢাকার খুচরা বাজারে আগের দিন প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হয়েছে ১৭ টাকা কেজি দরে। ২০০৬ সালের ৫ এপ্রিলের মানবজমিনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, হাতিরপুল বাজারে আগের দিন প্রতি কেজি নাজিরশাইল বিক্রি হয়েছে ২২ টাকা । ২০০৬ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস পরিবেশিত খবরে বলা হয়, ‘গতকাল ঢাকার বাজারে পাইকারি চালের দাম মিনিকেট প্রতি কেজি ২২ থেকে ২৪ টাকা, কালিজিরা প্রতি কেজি ২৭.৭০ টাকা, চিনিগুঁড়া ২৮.২০ টাকা, স্বর্ণা প্রতি কেজি ১৫.৫০, মোমপালিম প্রতি কেজি ১৭.৭০ টাকা, লতা প্রতি কেজি ১৮.৬০ টাকা, লতা মোটা প্রতি কেজি ১৫.৫০ পয়সা, পারিজা প্রতি কেজি ১৭.৩৫ টাকা, নাজিরশাইল প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২২ টাকা এবং আটইশ চাল প্রতি কেজি ১৭.৯০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।’
এদিকে ঠিক পাঁচ বছর পর গতকালের (৬ এপ্রিল/২০১১) টিসিবির বাজারদরের তালিকায় দেখা যায়, মোটা চাল স্বর্ণা/চায়না ইরি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩২ থেকে ৩৬ টাকা, উত্তম মানের পাইজাম/লতা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা, সাধারণ মানের পাইজাম/লতা প্রতি কেজি ৩৭ থেকে ৪০ টাকা, নাজির/মিনিকেট উত্তম মানের প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫২ টাকা এবং সাধারণ মানের নাজির/মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫২ টাকায়।
ওদিকে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগের দিন ও ১/১১ সরকারের শেষদিনের টিসিবির বাজারদর অনুযায়ী ঢাকার বাজারে স্বর্ণা ও চায়না ইরি মোটা চাল বিক্রি হয়েছে ২৭ থেকে ২৯ টাকা, সাধারণ মানের পাইজাম/লতা ৩২ থেকে ৩৩ টাকা, উত্তম মানের পাইজাম/লতা ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা, সাধারণ মানের নাজির ও মিনিকেট ৩৩ থেকে ৩৮ টাকা এবং উন্নত মানের মিনিকেট চাল ওইদিন বিক্রি হয়েছে ৩৮ থেকে সর্বোচ্চ ৪২ টাকা কেজি দরে।
২০১০ সালে টিসিবির বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক বছরে নাজির, মিনিকেট, পাইজাম, লতা, স্বর্ণা, চায়না ইরিসহ সব ধরনের চালের মূল্য বেড়েছে গড়ে প্রায় ৩২ শতাংশ। মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন মোটা চাল। এ সময়ে মোটা চালের দর বেড়েছে গড়ে প্রায় ৩৪ শতাংশ।
খুচরা বিক্রেতারা চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সিন্ডিকেট ও পাইকারি বিক্রেতাদের দায়ী করছেন। অন্যদিকে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, চালকল মালিকরা বেশি দামে তাদের কাছে চাল বিক্রি করছেন বলেই তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে একাধিক বিক্রেতা বলছেন, অসাধু চালকল মালিকরা অতিমুনাফার আশায় চাল মজুত করছেন। এর সঙ্গে সরকারি মদতপুষ্ট ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য চালের দাম বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দাম এত বেশি হওয়ার কথা নয়। এর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিছু দিন আগে সংসদে দাঁড়িয়েও চালের দামবৃদ্ধির পেছনে ষড়যন্ত্রকারীরা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
চালের মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারের তরফ থেকেও চালকল মালিকদের দায়ী করা হয়েছে। কিছু দিন আগে সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, অনেক চালকল মালিক অতিরিক্ত মুনাফার জন্য চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে বৈঠকে চালকল মালিকরা খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, চালকল মালিকদের কাছে চালের মজুত নেই। অবৈধ ও খণ্ডকালীন মজুতের জন্য ব্যবসায়ীরাই দায়ী। প্রধানমন্ত্রীও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ১২ থেকে ১৫ মিলারের কাছে জিম্মি চালের বাজার। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরেও চাল নিয়ে চলছে চালবাজি। মিলাররা ইচ্ছামতো চাল সরবরাহ করেন আবার ইচ্ছামতোই দাম বাড়ান—এমন অভিযোগ পাইকারি চাল ব্যবসায়ীদের।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে বোরো চালের উত্পাদন হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ টন। আমন হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ টন আর আউশ ২৫ লাখ টন। মোট উত্পাদন হয়েছে ৩ কোটি ৪৭ লাখ টন চাল। এর মধ্যে ১২ ভাগ খাদ্যশস্য বীজ হিসেবে সংরক্ষণ এবং মাঠ থেকে আনা ও মাড়াই প্রক্রিয়ায় নষ্ট হয় বলে ধরা হয়। ফলে এ পরিমাণ খাদ্যশস্য বাজারে আসে না। তাদের দেয়া তথ্যমতে, মোট খাদ্যশস্যের উত্পাদন ৩ কোটি ৫ লাখ ৩৬ হাজার টন। এর সঙ্গে দেশে উত্পাদিত ১০ লাখ টন গম ও আমদানি করা ৩০ লাখ টন খাদ্যশস্য যোগ করলে মোট খাদ্যশস্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩৬ হাজার টন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, গত অর্থবছরে (২০০৯-১০) বোরো চাল ১ কোটি ৮৩ লাখ টন, আমন ১ কোটি ২২ লাখ টন, আউশ ১৭ লাখ টন এবং গমের উত্পাদন ছিল ৯ লাখ ৬৯ হাজার টন। মোট খাদ্যশস্যের উত্পাদন ছিল ৩ কোটি ৩১ লাখ ৬৯ হাজার টন

এইচটি ইমাম বঙ্গবন্ধু খুনের সঙ্গে জড়িত : কাদের সিদ্দিকী

শীর্ষ নিউজ

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারবে না। কারণ তাদের মন্ত্রিপরিষদেই যুদ্ধাপরাধী রয়েছে। স্বচ্ছভাবে বিচার করতে হলে আগে তাদের বিচার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বঙ্গবন্ধু খুনের সঙ্গে জড়িত। এসব খুনির দিক-নির্দেশনায় চলছে সরকার। এদের নিয়ে কিভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে? গতকাল বিকেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অঙ্গসংগঠন যুব আন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১০ টাকা কেজি দরে জনগণকে চাল খাওয়াবে বলে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু তারা পুরোপুরি ব্যর্থ। এ ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাদের এখনই পদত্যাগ করা উচিত। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম সরকারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সম্মেলন শেষে জুয়েল খানকে সভাপতি ও খন্দকার মনিরুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট যুব আন্দোলনের ও ডিএম শামীম সুমনকে সভাপতি ও আমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।