Wednesday, 23 November 2011

শিশু ধর্ষণ বাড়ছে : ৩৪ মাসে ১৬০০ নারী ও শিশু ধর্ষিত

নাছির উদ্দিন শোয়েব

ঈশারাত জাহান ইভা। ছয় বছরের স্কুলছাত্রী। কোরবানির ঈদের ছুটিতে মামার বাসায় বেড়াতে এসেছিল অবুঝ শিশুটি। ঈদের আগের রাতে টেলিভিশনে কার্টুন দেখার সময় পাশের বাসার ভাড়াটে জাকির শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে ঘরের বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। ধর্ষণ করে শিশুটিকে। তার পর তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে জাকির। এমনকি লাশের পরিচয় নিশ্চিহ্ন করতে ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয় তার শরীরে। ঈদের দিন সকালে বাড়ির পাশের ডোবায় ইভার মৃত দেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর খিলক্ষেতের নামাপাড়া এলাকায়। পরে র্যাবের হাতে গ্রেফতার জাকির শিশুটিকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর নির্যাতনের কথা স্বীকার করে।
ঈদুল আজহার আগের রাতে নগরীর হাজারীবাগ এলাকায় সাত বছরের একটি শিশুকে সুলতানগঞ্জ এলাকার এক যুবক ধর্ষণ করে। এ কথা কাউকে বললে হত্যারও হুমকি দেয়া হয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় থানায় মামলা হয় এবং শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে স্থানীয় লোকজন ও কয়েকটি নারী অধিকার সংগঠন।
প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটছে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। কোনোটি মিডিয়ায় প্রচার
হয়, অনেক ঘটনা থেকে যায় আড়ালে। মান-সম্মানের কথা বিবেচনা করে এসব ঘটনা অনেকেই প্রকাশ করতে কিংবা মামলা করতে চায় না। পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বর্তমান সরকারের ৩৪ মাসে সারাদেশে প্রায় ১৬শ’ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৫৮৩ নারী-শিশু। গণধর্ষণ করা হয়েছে ৪০৩ জনকে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২১০ জনকে। অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে ৪৪ জন। তবে এ পরিসংখ্যানের চেয়ে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ধর্ষণের প্রকৃত ঘটনা পরিসংখ্যানের কয়েকগুণ—বলছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
গত ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ইমান আলী ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের এক রায়ে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি থানায় আলাদা সেল গঠন করতে হবে। এক মাস পর পর যৌন হয়রানির মামলার বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে থানা সেল। কিন্তু গত ১০ মাসেও আদালতের এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি।
ক্রমেই নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে চলছে। শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিশুরাও। ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুম করার ঘটনাও ঘটছে। পরিচয় নিশ্চিহ্ন করতে নারীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটছে। সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। ফরেনসিক পরীক্ষার ঝামেলা, আলমত সংগ্রহ এবং অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে উপস্থিত হতে বাধ্য করায় অনেকেই লোকলজ্জায় ঘটনা এড়িয়ে যেতে চায়। থানায় মামলা হলেও গ্রেফতার হয় না অপরাধী। কেউ গ্রেফতার হলেও মামলা বেশি দূর এগোয় না। প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীনদের হুমকি, কখনও তাদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা করতে বাধ্য হয় অভিযুক্তরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেছেন, নিরাপত্তার অভাবে অনেকে নির্যাতিত হয়েও মামলা করতে ভয় পায়। আবার অনেক মামলায় আসামি পক্ষের ভয়ে মানুষ সাক্ষ্য দিতে চায় না। এর ফলে সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অনেক সময় অপরাধীরা আদালত থেকে পার পেয়ে যায়। এজন্য ভিকটিম অ্যান্ড উইটনেস প্রটেকশন অ্যাক্ট নামে নতুন একটি আইন করা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গত ১০ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৭৩ জন। এর মধ্যে শিশু ৩৮৫ জন, এ ঘটনায় খুন ৫১ জন, গণধর্ষণ ১০৮ জন ও আত্মহত্যা করেছে ৩০ জন। ২০১০ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৫৬ জন, শিশু ৩০৮ জন, হত্যা করা হয় ৬১ জনকে, গণধর্ষণের শিকার ১১৯ জন ও আত্মহত্যা করেছে ৬ জন। ২০০৯ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪৫৪ জন, শিশু ২৪৩ জন, হত্যা ৯৭ জন, গণধর্ষণ ১৭৬ জন ও আত্মহত্যা করেছে ৮ জন।
কিছুদিন আগে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখায় এক ছাত্রীকে কোচিং সেন্টারে আটক করে শ্লীলতাহানির ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক পরিমলকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করে। অন্যদিকে ঢাকা সিটি কলেজের মার্কেটিং বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শামীমা নাসরিন সুইটিকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহত ছাত্রীর বাবা আলাউদ্দিন খন্দকার মেয়ের কথিত মামাবেশী প্রেমিক সাইফুল ইসলাম রনিসহ তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোকন নামে একজনকে আটক করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সুইটিকে ৪-৫ জন মিলে ধর্ষণ করে। ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। খিলক্ষেত থানার ওসি শামীম হোসেন বলেন, নিহত ছাত্রীর সঙ্গে আসামি সাইফুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
গত ৩১ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর তাজমহল রোড়ের সি-ব্লকের ১২/৬ বাড়ির চতুর্থ তলায় মডেল আদৃতাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। তার প্রেমিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আশিষ কর্মকারকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গত সেপ্টেম্বরে রাজধানীর আদাবর মাঠখোলা মহল্লায় এক কিশোরী (১৫) গণধর্ষণের শিকার হয়। ওই কিশোরীর মা আমেলা বেগম অভিযোগ করেন, রাত সাড়ে ৮টায় তার মেয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে আদাবরে বাসায় ফিরছিল। ওই সময় স্থানীয় বখাটে শুকুর আলী তিন সহযোগীসহ মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তারা সবাই মিলে মাঠখোলার ফাঁকা একটি স্থানে তার ওপর নির্যাতন চালায়। আশপাশের লোকজন টের পেলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। এরপর কিশোরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গভীর রাতে ঢামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। কিছুদিন পরই মোহাম্মদপুরে পুলপার বটতলার একটি বাসায় অপর কিশোরী (১৪) ধর্ষণের শিকার হয়।
গত ২ জুন গাজীপুরের টঙ্গীতে এক তরুণী রাতে ঘরের বাইরে গেলে বাড়িওয়ালার ছেলে মইনুদ্দিন ও তার কয়েক সহযোগী তাকে ধর্ষণ করে এবং পরে তরুণীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৫ জুন মারা যায়। এছাড়া বাগেরহাটে প্রথম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে প্রতিবেশী। অপরদিকে, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ভাবনপাড়া প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ভজন কুমার শিকদার ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ অভিযোগে তিনদিন পর থানায় মামলা হয়। এদিকে, গত শবেবরাত রাতে গাজীপুরে ধর্ষণের শিকার ৬ বছরের এক শিশু ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনায় জনতা ধর্ষক জুয়েলকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়।
গত ১৬ অক্টোবর রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় শারমীন (১০) নামের স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। আগের দিন সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ বলছে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর এক কলেজ ছাত্রী সাতক্ষীরা শহরে বেড়াতে আসেন। বিকালে বাড়ি ফেরার সময় তার সঙ্গে দেখা হয় তাদের পারিবারিকভাবে পরিচিত দেবাহাটা থানার পুলিশ কনস্টেবল সালাউদ্দিনের সঙ্গে। সালাউদ্দিন কলেজ ছাত্রীকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সাতক্ষীরা শহরের শাপলা হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জে এক গৃহবধূকে ঋণ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ঘরে আটকে রেখে পাশবিক অত্যাচার চালায় ও তার নগ্ন ছবি তুলে তা প্রচার করে মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন স্থানীয় নেতা।

Monday, 31 October 2011

শ্রমজীবী মানুষ দিশেহারা : দ্রব্যমূল্য বাসাভাড়া চিকিত্সা ও পরিবহনব্যয় নাগালের বাইরে



আলাউদ্দিন আরিফ
রিকশা-ভ্যানচালক আবুল হাশেমের মাসিক আয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। তিন বছর আগে এর অর্ধেক টাকা রোজগার করেও আটজনের সংসার তিনি একাই চালিয়েছেন। এখন ভ্যানের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। কিন্তু এ আয়েও এখন তিনি আর সংসার চালাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তার স্ত্রী খিলগাঁও তিলপাপাড়ায় দুটি বাসায় বুয়ার কাজ করেন। এ মাসে মেজো মেয়েটিকে কাজ দিয়েছেন সুতার ফ্যাক্টরিতে। এখনও বেতন ধরেনি কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে স্বামী-স্ত্রীর আয় প্রায় ১১ হাজার টাকা। আয় আগের তুলনায় বাড়লেও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়নি একচুলও। বরং কমেছে। বেড়েছে সংসারে অভাব-অনটন আর অশান্তি। পরিবার-পরিজন নিয়ে খিলগাঁও তিলপাপাড়া বক্সকালভার্ট সড়কের পাশে টিনের ঘরটিতে থাকছেন ৬ বছরের বেশি সময় ধরে। উঠে ছিলেন ৭০০ টাকা ভাড়ায়। এখন সেই বাড়ির ভাড়াই দিচ্ছেন সাড়ে তিন হাজার টাকা। কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার আড্ডা গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাশেম বলেন, ‘চাইর বছর আগেও দিনে ত্রিশ টিয়া (টাকা) দামের হোয়ার (সোয়া কেজি) চাইল, আর ত্রিশ-চল্লিশ টাকার তরিতরকারি (শাকসবব্জি) কিনলে ভালামতন খাওন যাইত। কিন্তু অনে দিনে তিনশ’ টেয়ায়ও সারে না। হোয়ার চাইলে যায় ষাইট টিয়া, একশ’ টিয়ার তরতরকারি কিনলে একদিন চলে না।’ বয়স পঞ্চাশে পড়া হাশেম বলেন, স্যার আমরা বাইচমু কেমনে।’
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আবুল হাশেমের মতোই অবস্থা নগরীর নিম্নআয়ের মানুষের। সবারই একটা প্রশ্ন—আমরা বাঁচব কী করে? গতকাল খিলগাঁও রেলক্রসিংয়ের নিচে নিজের ভ্যানের ওপর বসে জিরিয়ে নেয়ার সময় হাশেম বলেন, বড় মেয়েটাকে গত বছর বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের সময় গ্রামের বাড়িতে কিছু জমি বন্ধক দিয়ে ও ঢাকায় এসে ভ্যান চালিয়ে সঞ্চিত চল্লিশ হাজার টাকা যৌতুক দিয়েছেন মেয়ের জামাইকে। কিন্তু এখন মেয়ের স্বামী একটা ক্যামেরা মোবাইল সেট চায়। মোবাইল না দেয়ায় মেয়েকে আমার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। বলেছে, মোবাইল না নিয়ে যাতে স্বামীর ঘরে না যায়। আবুল হাশেম কী করে টাকা জমিয়ে একটা মোবাইল কেনা যায় সেই চিন্তায় অস্থির।
ঢাকায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য আর বাসা ভাড়া। এ দুটির লাগাম টেনে ধরতে পারছে না কেউ। সেই সঙ্গে বেড়েছে বাস ভাড়া, রিকশা ভাড়া, শিক্ষা ও চিকিত্সা ব্যয়। ফলে সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের মানুষ আছেন চরম বিপাকে। বাড়তি খরচের ধাক্কা আসছে বাড়িওয়ালা, সবজিওয়ালা, দোকানদার, রিকশাওয়ালাদের কাছ থেকেও। বাসায় গেলে বাড়িওয়ালার দাপট, বাজারে বিক্রেতার দৌরাত্ম্য, রাস্তায় রিকশা গাড়ির দৌরাত্ম্য। সবদিক থেকেই বেসামাল নগরজীবন। তেল-গ্যাসের ভর্তুকি কমানোর অজুহাতে দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মানুষের জীবনে বিরাজমান অভাবকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না মানুষ। এতে অভাব-অনটন বাড়ার পাশাপাশি যৌতুকের দাবিতে বাড়ছে নারী নির্যাতন। দেখা দিচ্ছে সামাজিক অস্থিরতা।
নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবজি, মাছ, মাংস, চাল ও তেলসহ সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসারের চাকা এখন চলছে না। অর্থনীতির হিসাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ঠেকেছে ১২ শতাংশের বেশি। সীমিত আয়ের মানুষের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বড় ধাক্কা লেগেছে দিনমুজুর থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এমনকি উচ্চবিত্তের জীবনেও। বাজারে ভালো মানের চাল কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৬০ টাকা। মোটা চাল মিলছে না ৩৬ টাকার কমে। ওএমএসের চালের দামও ২৪ টাকা কেজি। চাল নিয়ে ওএমএসের ট্রাক এখন আর যায় না স্পটগুলোতে। সাধারণ মানুষ বলছেন, গত রমজানের আগ পর্যন্ত শাকসবজির দাম ক্রেতার নাগালের মধ্যে ছিল। তখন সবজি দিয়ে অন্তত দু’বেলা ভাত খেতে পেরেছে মানুষ। কিন্তু সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ওই সুযোগও আর নেই। এখন সবজির দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, ক্রেতারা সবজির দোকানে যেতেও ভয় পান। পেঁপে আর আলু ছাড়া বাজারে ৫০ টাকার কমে কোনো সবজি নেই। তাহলে মানুষ খাবে কী?
খিলগাঁও শাহজাহানপুরে একটি ফার্নিচার দোকানের পলিশ মিস্ত্রি চাঁনমিয়া। রোজ মজুির নেন ৪০০ টাকা। দু-আড়াই বছর আগে মজুরি নিতেন ২০০ টাকা। মাত্র দু’বছরে বলা যায় তার আয় বেড়েছে দ্বিগুণ। বাজারে জিনিসপত্রের দাম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রথমেই চাঁনমিয়া বলেন চাল, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, ডাল ইত্যাদির কথা। মোটা চালের দাম ১৮ থেকে ৪০ টাকা। পেঁয়াজ ১৬ থেকে ৪০-৪২ টাকা, কাঁচামরিচের দাম ৪০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা। আগে বাড়িভাড়া দিতেন ১২শ’ টাকা। এখন দেন ৩২শ’ টাকা। চাঁনমিয়া বলেন, তাদের কাজ রোজ হিসেবে। কোনোদিন কাজ থাকে কোনোদিন থাকে না। তারপরও সপ্তাহে একদিন মার্কেট থাকে বন্ধ। এছাড়াও হরতালসহ বিভিন্ন কারণে মাসে আরও এক-দু’দিন মার্কেট বন্ধ থাকে। সব মিলিয়ে মাসে গড়ে ১৫ থেকে ১৮ দিন কাজ করেন। মাসের বাড়িভাড়া, বিদ্যুত্ বিল, খাবার খরচসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে অসম্ভব আর্থিক টানাটানিতে পড়ছেন। প্রতি মাসেই ঋণ করতে হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ডাচবাংলা ব্যাংকের টিএসসি বুথের গার্ড মোয়াজ্জেম জানালেন, দৈনিক ডিউটি ৮ ঘণ্টা। বেতন ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এ সামান্য বেতনে চলেন কী করে উত্তরে বলেন, রোজ একটি ওভারটাইম পান তারা। অর্থাত্ ৮ ঘণ্টার স্থলে ডিউটি করতে হয় ১৬ ঘণ্টা। এতে মাসে তার সাকুল্যে আয় হয় ৭ হাজার টাকা। মোয়াজ্জেম জানালেন, কিছুদিন আগেও বেতনের টাকায় থাকা-খাওয়া সেরে ওভারটাইমের টাকাগুলো বাড়িতে পাঠাতে পারতেন। কিন্তু এখন সেটা পারছেন না। ওভারটাইমেরও অর্ধেক টাকা খরচ হয়ে যায় থাকা-খাওয়া আর পকেট খরচ বাবদ। বাড়িতে মাসে হাজার দুয়েক টাকা পাঠানো মুশকিল হয়ে পড়ে তার।
খিলগাঁওয়ের গৃহবধূ তাহমিনা বেগম বলেন, তার স্বামী দু’বছর আগে যে বেতন পেতেন এখনও তাই পাচ্ছেন। নানা জটিলতায় অফিসে তার স্বামীর বেতন বাড়ছে না। স্বামীর বেতন প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আগে মোটামুটিভাবে মাসের খরচ শেষে কিছু টাকা সঞ্চয় করতে পারতেন। কিন্তু এখন সেটা সম্ভব হয় না। প্রতি মাসেই অভাবে পড়তে হয়। উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই দু’বছরে বাসাভাড়া বেড়েছে ২ হাজার টাকা। বিদ্যুত্ ও ডিশলাইনের বিল বেড়েছে প্রায় চারশ’ টাকা। এর বাইরে তাদের একমাত্র মেয়েকে আগে ডাক্তার দেখিয়ে যেখানে ডাক্তারি ফি দিতেন ৩০০ টাকা, এখন তা দিতে হয় ৬০০ টাকা। গত কয়েক বছরে শিশুর দুধসহ অন্যান্য শিশুখাদ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘এক কেজি ডিপ্লোমা গুঁড়ো দুধ দুই বছর আগে কিনতাম ৩৬০ টাকায় এখন কিনতে হচ্ছে ৫৭০ টাকায়। ৩০ টাকা কেজির চিনি হয়েছে ৭০ টাকা। ৫ টাকা দামের একটি চকোলেটের দাম হয়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। আগে মিনিকেট চাল কিনতেন, এখন কিনছেন স্বর্ণা। মাছ-মাংস কেনা কমিয়েছেন। কিন্তু একমাত্র মেয়ে কিছু চাইলে তো আর না দিয়ে পারা যায় না। দাম যতই বাড়ুক নিজে না খেয়ে হলেও অন্তত বাসা ভাড়া আর সন্তানের খাবারের টাকা তো জোগাড় করতে হয়। তার ওপর গ্রামের বাড়িতে শ্বশুর-শাশুড়িকে টাকা পাঠাতে হয়, তাদের চিকিত্সা ও ওষুধ কিনে দিতে হয়। এসব করতে গিয়ে প্রতি মাসেই ঋণ করতে হচ্ছে। সঞ্চয় আগেই শেষ। মাসের ঋণ মাসে পরিশোধ করতে না পারায় এখন আত্মীয়স্বজনের কাছে ঋণ চাইলেও পাওয়া যায় না। বিভিন্ন অজুহাতে নিষেধ করে দেন। তাহমিনা বলেন, রিকশাচালক রিকশাভাড়া বাড়াতে পারে, বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারে কিন্তু আমাদের মতো চাকরিনির্ভর মানুষ ইচ্ছে করলেই বেতন বাড়িয়ে নিতে পারেন না। ফলে এ ঊর্ধ্বগতির বাজারে নিজের শখ আহ্লাদ পূরণ দূরে থাক—বেঁচে থাকাটাই দায় হয়ে পড়েছে।
গতকাল মালিবাগ বাজারের পাশে ওএমএসের চাল কেনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সুরাইয়া, হাফসা ও মরিয়মসহ কয়েকজন। বেলা তখন সাড়ে ১২টা। তাদের একজন সুরাই খা সে অসুস্থতার কথা বলে গার্মেন্ট থেকে ছুটি নিয়ে এসেছেন। ওই সময়েও ওএমএসের ট্রাক আসেনি। এলে সবার আগে লাইনে দাঁড়াবেন এজন্য অপেক্ষা। তারা জানান, প্রায়ই ট্রাক আসে না। অপেক্ষমাণ এসব মানুষ বলেন, তিন বছর আগেও মোটা চাল কিনতেন সতের আঠার টাকা কেজিতে। আর এখন সরকারি ওএমএসের মোটা চালও কিনতে হয় ২৪ টাকা কেজিতে। বাজার থেকে কিনতে হয় ৩৮ টাকায় অর্থাত্ চালের দাম বেড়েছে আড়াইগুণ। সুরাইয়া বলেন, তিন বছর আগে তিনি গার্মেন্টে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন মাত্র এক হাজার টাকা বেতনে। এখন সেই বেতন হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। কিন্তু সুরাইয়ার ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি এই বাড়তি বেতনে। কারণ তার মেসের খরচ, চাল ডালের খরচ দিয়ে বাড়িতে এক হাজার টাকা পাঠানো খুবই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
কারওয়ান বাজারে একটি বেসরকারি অফিসে অফিস সহকারী শামসুদ্দীন মিয়া। বাসা ঢাকার মানিকনগর এলাকায়। ৫ ছেলে তার। নিজে বেতন পান ৫ হাজার টাকা মাসে। তিন ছেলে কর্মজীবী। এক ছেলে অন্য একটি অফিসে অফিস সহকারী। দুই ছেলে দোকান চালায়। আর ছোট দুই ছেলে পড়ছে। বাবা ও ৩ ছেলের আয় মাসে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। মেস বাসাভাড়া দেড় হাজার, প্রত্যেকের খাওয়া খরচ মাসে প্রায় ২ হাজার। এসব খরচ মিটিয়ে মাসে হাজার তিনেক টাকা বাড়িতে পাঠানো দুষ্কর হয়ে পড়ে শামসুদ্দীন মিয়ার।
দীর্ঘ ত্রিশ বছর সরকারি চাকরি করে কয়েক বছর আগে অবসর গ্রহণ করেছেন খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আনোয়ার উল্লাহ। তিনি অবসর নেয়ার সময় সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন মোট ১৬ লাখ টাকা। পুরো টাকা দিয়েই তিনি জাতীয় সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন। যা থেকে তিন বছর আগেও ১৪ শতাংশ হারে সুদসহ মাসে ২০ হাজার টাকা পেতেন। বর্তমানে সরকার এই সুদের হার কমিয়ে ১২ শতাংশ করেছে। তার ওপর সুদের ওপর ট্যাক্স বসিয়েছে। ফলে আনোয়ার উল্লাহর সংসারের আয় কমে গেছে। পেনশনের চার লাখ টাকা ছেলেকে দিয়েছেন শেয়ারবাজারে খাটানোর জন্য। কিন্তু তার ছেলে এরই মধ্যে দুই লাখ টাকা লোকসান করেছে। একদিকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমে গেছে। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে ছেলের লোকসান। সব মিলিয়ে আনোয়ার উল্লাহর সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা। তিনি বলেন, শুধু চাল, ডাল, মাছ ও তরকারি দাম বেড়েছে তাই নয়; সাবান, কসমেটিকসসহ এমন কোনো জিনিস নেই যার দাম বাড়েনি। শুধু দাম বাড়েনি আমার ছেলের শেয়ারগুলোর।
রংপুরের রিকশাচালক মোজাম্মেল হক। ঢাকায় এসেছেন প্রায় ৬ বছর। বললেন এখন মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকা কামাই করেও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, মাত্র ৫ বছর আগেও খিলগাঁও রেলগেট থেকে মৌচাক যেতেন ৮ টাকা বা ১০ টাকায়। এখন নেন ২৫ টাকা। আগে মাসে ৫ হাজার টাকা আয় করে ঢাকায় মেসের ভাড়া, খাওয়া খরচ, চা সিগারেটের খরচ মিটিয়ে আড়াই হাজার টাকা বাড়িতে পাঠাতে পারতেন। কিন্তু এখন ১০ হাজার টাকা কামাই করেও আড়াই-তিন হাজার টাকা পাঠানো সম্ভব হয় না। প্রতিদিনকার খরচের বিবরণ তুলে ধরে মোজাম্মেল জানান, মান্ডার একটি গ্যারেজের রিকশা তিনি চালান। রিকশার জমা রোজ ১০০ টাকা। রোজ হিসেবেই মেসে থাকেন। রাতের খাওয়াসহ মেস ভাড়া রোজ ৮০ টাকা। রাস্তায় রিকশা নিয়ে বেরুলে দুপুরের খাবার ও সকালের নাস্তা, চা সিগারেটসহ খরচ আরও ১০০ টাকা। সব মিলিয়ে ৩০০ টাকা তার দৈনিক খরচ। ফলে এখন মাসে হাজার তিনেক টাকা বাড়িতে পাঠাতে পারেন। ওই টাকা দিয়ে বাড়িতে তিন সন্তান, মা ও স্ত্রীর খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছেন। মোজাম্মেল বলেন, স্যার হুনছি চাইলের কেজি ১০০ ট্যাকা হবি, তাইলে মোরা বাঁচমো কেমনে।
খিলগাঁও বাজারে মিনতির কাজ করে সাইফুল, কামাল, তিনি রাশেদসহ বেশ কয়েকজন। বাজারে ঢুকলেই বড় ঝুড়ি মাথায় নিয়ে পিছে পিছে ঘুরে বলে স্যার ‘মিনতি নিবেননি, মিনতি লাগবোনি’। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারেই মিনতিদের দেখা মেলে। শাক-সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই মিনতিরা পড়েছেন মহাবিপাকে। মানুষ সবজি কেনা কমিয়ে দেয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়ছেন তারা। খিলগাঁও বাজারের মিনতি সাইফুল বলেন, আগে দিনে এক হাজার টাকা পর্যন্ত কামাই করেছেন। কিন্তু এখন সারা দিনে ২০০ টাকাও আয় করা যাচ্ছে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে অমানবিক জীবনযাপন করতে হচ্ছে।’ আরেক মিনতি রাশে বলেন, শাক-সবজি ও মাছের দাম বাড়ায় মানুষ যে কেনাকাটা করে তাদের ব্যাগই ভরে না। লোকজন হাতে করেই ব্যাগ নিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছে। মিনতি প্রয়োজন হয় না। কেবল মহল্লার কিছু সবজি ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকরা মিনতি নেন। কিন্তু তারা আবার পারিশ্রমিক দেয় খুবই কম। এতে সামান্য কিছু রোজগার হয়। যার ফলে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে না। কারওয়ান বাজারের মিনতিদের ঝুড়ির মালিক বললেন, দিনে ১০ টাকা ভাড়ায় ঝুড়ি নেয় মিনতিরা। এক ঝুড়ি ভাড়া দেয়া রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০০ ঝুড়ির মধ্যে এখন তিনি ভাড়া দিতে পারেন মাত্র ৮০টি। বাকিগুলো পড়েই থাকে।
নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খান বলেন, জিনিসপত্রের দাম যে বাড়ছে তা মানুষের কাছে বোঝাস্বরূপ। শুধু সীমিত আয়ের মানুষই নয় সব শ্রেণীপেশার মানুষ এখন কষ্টে দিন পার করছে। সরকার নির্বাচনের আগে জিনিসপত্রের দাম কম রাখার যে অঙ্গীকার করেছিল এখন তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ভোগ্যপণ্যের দাম কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দ্রব্যমূল্য বাড়লে সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা খুবই করুণ হবে এটাই স্বাভাবিক। বর্তমান সরকারের পক্ষে তো নয়ই পরে বিএনপি বা অন্য কোনো সরকারের পক্ষেও এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজসাধ্য হবে না। সামষ্টিক অর্থনীতি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। বৈদেশিক সাহায্য কমে গেছে। সরকার ঋণ নিয়ে দেশ চালাচ্ছে। সরকারের ঋণ দিতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রা ছাপিয়ে সরকারের চাহিদা পূরণ করছে। এতে প্রতিনিয়ত মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। সরকার বেশিদামে জ্বালানি এনে কম দামে বিক্রি করছে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো থেকে বেশি দামে বিদ্যুত্ কিনে কম দামে বিক্রি করছে। যাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বেড়েছে। কৃষি ও খাদ্যে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সরকারের আয় কম ব্যয় অনেক বেশি। নতুন টাকার সরবরাহ বাড়লে মূল্যস্ফীতি হবে। জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। আর সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। কাগুজে মুদ্রা ছেপে সাময়িকভাবে সঙ্কট সামাল দেয়া হলেও মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ। কেনা ব্যবসায়ীরা যদি মনে করেন, এরকম মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকবে তাহলে তারা পণ্যমূল্যের সঙ্গে তাদের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির হারটি ধরে নিয়ে দাম হাঁকবেন। এর ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বেসামাল হয়ে পড়বে। সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়বে। বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ভয়াবহ ভঙ্গুর মধ্যে পড়েছে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী তার কাজের সমালোচনা হলে বা সরকারের কোনো পদক্ষেপের সমালোচনা করলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে রূঢ় স্বরে বলেন, রাবিশ। এখন প্রশ্ন তার ওপর ন্যস্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে তিনি কী বলবেন?
বাংলাদেশ কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন ক্যাব সভাপতি কাজী ফারুক বলেন, ‘বাসাভাড়া, গাড়িভাড়া নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মানুষ দৈনন্দিনের ব্যয় কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তারা আর ব্যয় কমানোর কোনো খাত খুঁজে পাচ্ছে না। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। এ অবস্থা বেশিদিন চললে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। সরকারের উচিত সবার আগে দ্রব্যমূল্য ও জীবন যাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়া।

উন্নয়ন কাজের নামে লুটপাট









কাদের গনি চৌধুরী
উন্নয়ন কাজের নামে চলছে ব্যাপক লুটপাট। টেন্ডারের ৬০ ভাগ টাকা চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেট ও ঠিকাদারদের পকেটে। বাকি ৪০ ভাগ টাকার কাজ হচ্ছে দেশে। ফলে কাজের কোনো মানই বজায় থাকছে না। সবচেয়ে বেশি অর্থ লোপাট হচ্ছে সড়ক, ব্রিজ নির্মাণ ও সংস্কার, নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ এবং বিভিন্ন মেরামত কাজে। কাজ না করেও নদী খনন, বাঁধ নির্মাণের নামে পুরো টাকা তুলে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন প্রকল্পের অব্যয়িত টাকা রাজস্ব কোষাগারে জমা বা দাতাগোষ্ঠীকে ফেরত না দিয়ে আত্মসাত্ করা হচ্ছে। এ ধরনের বেশ কিছু অনিয়ম তদন্ত করছে দুদক।
সড়ক ও এলজিইডিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি কাজের সব টেন্ডারই বাগিয়ে নিচ্ছে সরকারি দল। তাই প্রকৃত ঠিকাদাররা কোনো কাজই পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ঠিকাদার বেকার হয়ে পড়েছেন। এদের কেউ কেউ আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে ১০% কমিশনে কাজ কিনে নিয়ে কোনোমতে পেশায় টিকে আছেন।
এলজিইডির ঠিকাদাররা জানান, কাজের অর্ধেক টাকা তাদের ব্যয় করতে হয় মন্ত্রণালয়, সরকারি দল, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারের পেছনে। ফলে কাজের মান তারা বজায় রাখতে পারছেন না। এর ফলে যে রাস্তা পাঁচ বছর পর সংস্কার করার কথা সেটি এক বছরেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। একাধিক ঠিকাদার ও এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলজিইডির বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের সাড়ে ১৩ পার্সেন্ট, সরকারি দল থেকে কাজ কিনে নিতে দশ পার্সেন্ট, প্রকল্প পরিচালক, কনসালটেম্লট, ল্যাবরেটরি, লোকাল চাঁদাবাজদের ম্যানেজ করতে ১০ পার্সেন্ট, ঠিকাদারের লাভ ১৫ পার্সেন্ট এবং মন্ত্রণালয়কে ১০ পার্সেন্ট ঘুষ দিতে হয়। ঠিকাদাররা জানান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে তিন পার্সেন্ট, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী দুই পার্সেন্ট, উপজেলা প্রকৌশলীকে সাড়ে তিন পার্সেন্ট, সহকারী প্রকৌশলী (সিনিয়র) এক পার্সেন্ট, জুনিয়র এক পার্সেন্ট, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাফ পার্সেন্ট, কাজের কনসালটেম্লট গ্রুপ এক পার্সেন্ট, হিসাব বিভাগ এক পার্সেন্ট, ট্রেজারি বিভাগ হাফ পার্সেন্ট এবং গুণগত মান সার্টিফিকেটের জন্য ল্যাবরেটরিকে দিতে হয় আরও হাফ পার্সেন্ট। এলজিইডির সাড়ে ১৩ পার্সেন্ট ভাগবাটোয়ার ঘটনা ওপেন সিক্রেট। এটা নিয়ে দরকষাকষির প্রয়োজন পড়ে না। আপনা আপনিই নিজ নিজ ডেস্কে এ টাকা চলে যায়।
সড়ক বিভাগের কাজে মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করতে ১০ থেকে ২০ পার্সেন্ট পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। অন্যান্য জায়গায় দিতে হয় আরও ২০ থেকে ২৫ পার্সেন্ট ঘুষ। এটাও ওপেন সিক্রেট। এর জন্যও দরকষাকষির প্রয়োজন পড়ে না। কোথায় কত টাকা দিতে হবে টেন্ডার পাওয়ার আগেই বলে দেয়া থাকে। সরকারি দলের ঠিকাদার থেকে কাজ কিনে নেয়া এবং ঠিকাদারের লভ্যাংশ বাদ দিলে ৪০ পার্সেন্টের বেশি টাকার কাজ হয় না বলে সড়ক ও যোগাযোগ বিভাগের একটি সূত্র জানায়।
ওয়াসার কাজে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয় বলে জানান ঠিকাদাররা। ওয়াসার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিতে হয় কাজের ২০ পার্সেন্ট। এদের মধ্যে ভাগ পান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দফতর। এমডির জন্য ভাগ থাকলেও বর্তমান এমডি ঘুষ খান না
বলে একাধিক ঠিকাদার জানান। এছাড়া কাজ ক্রয়, ঠিকাদারের লাভ এবং অন্যান্য খাতে চলে যায় ৪০ পার্সেন্ট টাকা। বিশেষ করে অগ্রিম আয়কর হিসেবে সাড়ে আট পার্সেন্ট টাকা শুরুতেই কেটে রাখা হয়। নিরাপত্তা জামানত হিসেবে এক বছরের জন্য জমা রাখা হয় আরও ১০ পার্সেন্ট। ওয়াসার একটি সূত্র জানায়, গত আড়াই বছর ধরে যত টেন্ডার হয়েছে এর সবই পেয়েছেন সরকারি দলের নেতা ও সরকার সমর্থক ঠিকাদাররা। ফলে পেশাদার ঠিকাদারদের থাকতে হয়েছে বেকার । অনেকে সরকারি দলের নেতাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে কাজ করছেন।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর, পিডব্লিউডি, রাজউক, সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সব জায়গায় একই অবস্থা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার জানান, তিনি এলজিইডির প্রায় এক কোটি টাকার একটি কাজ কিনে নেন ১৫ লাখ টাকায়। এছাড়াও তাকে এলজিইডিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আরও ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। তিনি জানান, এখনও কনসালটেম্লট গ্রুপ, হিসাব বিভাগ, ট্রেজারি বিভাগ এবং গুণগত মান সার্টিফিকেটের জন্য ল্যাবরেটরিকে তাদের পার্সেন্টেস দেয়া হয়নি। ক্ষোভের সঙ্গে ওই ঠিকাদার জানান, এখন যদি ৭০ ভাগ কাজ করি তাহলে বাবার জমি বিক্রি করে এনে সরকারি কাজ করতে হবে। সড়কের এক প্রকৌশলী জানান, মন্ত্রণালয় ও সওজ কর্মকর্তাদের দাবি মতো টাকা দিতে না পারায় তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ এনে ওয়ার্ক অর্ডার বাতিলের চেষ্টা করলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
প্রকল্পের অব্যয়িত টাকা আত্মসাত্ : সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডির অধিকাংশ প্রকল্পের অব্যয়িত টাকা রাজস্বখাতে জমা না দিয়ে আত্মসাত্ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলজিইডির আরডিপি-২১ প্রকল্প ক্লোজিংয়ের সময় প্রায় ১০ কোটি টাকা অব্যয়িত থেকে যায়। এ টাকা রাজস্বখাতে জমা না দিয়ে তত্কালীন পিডি প্রকল্পের অননুমোদিত পূবালী ব্যাংক, ফার্মগেট, ঢাকা’র এসটিডি-৩৪ নম্বর হিসাবের মাধ্যমে আত্মসাত্ করা হয়। বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত ও পল্লী উন্নয়ন পুনর্বাসন প্রকল্প ২০০৪-এও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ প্রকল্পের অব্যয়িত প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সরিয়ে ফেলা হয়। এ ব্যাপারে দুদকে মামলা হলে দ্রুত তা জমা দিয়ে দেয়া হয়। একইভাবে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প আরডিপি-১৩, ১৮ ও ২৫ প্রকল্পের অব্যয়িত টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, সিএইচটি আইডিপি প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কের আসাম বস্তিসংলগ্ন ৯৬ মিটার দীর্ঘ ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোড না করে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ ব্যয় করার লক্ষ্যে শুকনো স্থানে আরও একটি ২০৪ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ তৈরি করে প্রায় ২ কোটি টাকা সিএইচটি আইডিপি প্রকল্পের পরিচালকের সহায়তায় লুটপাট করা হয়।
কাজ না করে ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বিল প্রদানের ঘটনাও ঘটেছে এখানে। এলজিইডির একটি সূত্র জানায়, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা, কাকচিরা, বামনা, রাজাপুর, কাটালিয়া সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও ২০০৭ সালে এটি সংস্কার করে এলজিইডি। নামসর্বস্ব পত্রিকায় গোপনে বিজ্ঞাপন দিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে বরাদ্দ ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকার সমুদয় বিল প্রদান করে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি। ঠিকাদার ঘুষ দিয়ে সামান্য কাজ করে পুরো টাকা উঠিয়ে নেয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সূত্রে জানা যায়, এলজিইডিতে বছরে প্রায় ৬২৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়। এলজিইডির অভ্যন্তরীণ তদন্তে দুর্নীতির গড় অনুমিত হিসাব ১০৩ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে বিগত দু’বছরে প্রধান প্রকৌশলীর দফতরে জমা পড়া অভিযোগ, অভিযোগের তদন্ত এবং দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় হওয়া টাকার অঙ্কের গড় হিসাবে দুর্নীতির এ চিত্র পাওয়া গেছে। গত তিন বছরে ১২৭ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে এলজিইডিতে। এর মধ্যে ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
এলজিইডির একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই শত ভাগ কাজ দেখিয়ে বিল তুলে নেয়া, সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ, কর্মকর্তাদের স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে অবৈধভাবে ওইসব প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ বরাদ্দ দেয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এলজিইডিতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় গ্রামাঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণ ও সড়ক সংস্কার প্রকল্পে। বছরে সড়ক সংস্কারের জন্য সহস্রাধিক ছোট ছোট প্রকল্প হাতে নেয়ার মতো দুর্নীতি হচ্ছে এখানে। এসব প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রথমেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুষ দিতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘুষের কারণে এসব প্রকল্পের ব্যয় শুরু থেকেই বেশি ধরা হয়। কোনো সড়ক উন্নয়নে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হলেও তা দেখানো হয় ৭ কোটি টাকা। প্রকল্প অনুমোদনের পর টেন্ডার প্রক্রিয়ার জালিয়াতি ওপেন সিক্রেট। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, মন্ত্রী ও সচিব প্রভাববিস্তার করেন বলে অভিযোগ আছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী সুযোগ বুঝে আগেই সমঝোতা করে নেন স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে। আর এ সমঝোতার ফল হিসাবে বেশিরভাগ প্রকল্প শত ভাগ বাস্তবায়ন না করেই বিল তুলে নেয়া হয়। বছরের পর বছর একই সড়ক নতুন প্রকল্প হিসাবে নেয়া হয়। এক্ষেত্রে টেন্ডার জালিয়াতি এবং ভুয়া বিলের অভিযোগই বেশি পাওয়া যায়।
এলজিইডিতে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এখানে তার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ না করলে কাজ পাওয়া যায় না বলে সূত্র জানায়। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৪ ডিসেম্বর সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজ হিসাবে এই প্রধান প্রকৌশলীর সম্পত্তির হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়। দুদক তদন্ত করে জানতে পারে, প্রধান প্রকৌশলী তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের নামে দেড় বিঘা জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ৬ ইউনিটের এই বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা। তাছাড়া গাজীপুরে বাগানবাড়ি, কুমিল্লায় দেড়শ’ বিঘা জমি, কাঁচপুরে জমি এবং ৫টি ব্যাংকে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ও মেয়ে বদরুন্নাহার দীনার নামে ১৯ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিভাগের এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. আতিয়ার রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী খুরশীদ আলমকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা এলজিইডিকে লুটপাট করে খাচ্ছে।

Thursday, 22 September 2011

জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিবৃতি : আবুল আসাদকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক ও প্রবীণ সাংবাদিক আবুল আসাদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়ায় তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন। পৃথক বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আবুল আসাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন স্বনামধন্য সম্পাদককে গ্রেফতারের ঘটনা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি হুমকিস্বরূপ। গণতান্ত্রিক সমাজে কোনোভাবেই এটা কাম্য হতে পারে না। তারা অবিলম্বে আবুল আসাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি সরকার তার নিজস্ব প্রণীত আইন লঙ্ঘন করে সাংবাদিকদের ওপর হয়রানিমূলক আচরণ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর দেশের প্রবীণ সাংবাদিক এবং দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু গ্রেফতার করেই সরকার ক্ষান্ত হয়নি, তাকে নেয়া হয়েছে রিমান্ডে। এটা সাংবাদিক সমাজকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দীর্ঘকাল আটকে রেখে রিমান্ডে নির্যাতন করা হয়। এসব অনভিপ্রেত ঘটনা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বিকাশ, মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অন্তরায়। যেখানে সরকারের সাংবাদিকতা পেশায় পৃষ্ঠপোষকতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রদানের কথা—সেখানে প্রবীণ স্বনামধন্য একজন সম্পাদককে এভাবে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নির্যাতন চালানোর ঘটনায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি হুমকির নামান্তর। গণতান্ত্রিক সমাজে এ অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। সরকার সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হয়রানি ও নিবর্তনমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকবে বলে তারা প্রত্যাশা ও দাবি করেন এবং অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান।
সম্মিলিত পেশাজীবী ফোরাম সভাপতি অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শেখ আল আমিন এক বিবৃতিতে বলেন, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ গ্রেফতার করা হয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্ট দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি, দুর্নীতি, অনিয়ম, শেয়ারমার্কেট কেলেঙ্কারি, দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতা, ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তি, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নে জনজীবনে দুর্গতির বিষয়ে দেশের সাংবাদিকরা যখন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করছে, ঠিক তখনই সরকার সাংবাদিকদের স্তব্ধ করতে গ্রেফতার ও নির্যাতন শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বরেণ্য সাংবাদিক দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারের এ দমন-পীড়নের প্রতিবাদ জানানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে পেশাজীবীদের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
তারা বলেন, সাংবাদিকসহ পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, বিরোধী দল যাতে সরকারের অন্যায়, নির্যাতন ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে না পারে, সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও পুলিশ দিয়ে মামলা-হামলা, রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হয়েছে। সরকারের এই ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে সরকার সমর্থক কিছু মানবাধিকার নেতা ও সাংবাদিক সমর্থন জুগিয়ে বানোয়াট রিপোর্ট পেশ করে জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে। এই দলটি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই পেশাজীবীদের পেশাভিত্তিক কর্মকাণ্ড চালাতে বিশেষ করে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন নেমে এসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দেশবরেণ্য সম্পাদক আবুল আসাদকে গ্রেফতার করে বানোয়াট মামলায় রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এ অবস্থায় পেশাজীবীদের বসে থাকলে চলবে না, সর্বস্তরের জনগণের মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তারা বয়োবৃদ্ধ সাংবাদিক আবুল আসাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দ্রুত মুক্তির জোর দাবি জানান।
দৈনিক সংগ্রাম এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের প্রতিবাদ সভায় অবিলম্বে সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের মুক্তি দাবি করা হয়। এবিএম হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মো. এনামুল হক, খন্দকার এমদাদুল হক, সেক্রেটারি কামরুল আহসান, আনোয়ার হোসেন, হাবিবুল্লাহ হাবীব, হাবিবুর রহমান খান ও গোলাপ হোসেন।

Friday, 5 August 2011

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি : সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ



ডেস্ক রিপোর্ট
শুরু হয়েছে মাহে রমজান। সিয়াম সাধনার জন্য মুসলমানরা এ মাসের অপেক্ষায় ছিলেন। আর নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা যেন অপেক্ষায় ছিলেন অধিক মুনাফা লাভের আশায়। চলতি রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিস্তারিত খবর আমাদের প্রতিনিধিদের :
মংলা (বাগেরহাট) : মংলার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বাজারে উপস্থিত ক্রেতা সাহাবুদ্দিন, মামুন, রনি, নাজমা, ইদ্রিস অভিযোগ করে বলেন, রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। এব্যাপারে তারা সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান সামনে রেখে প্রতি বছরই মহাজনরা পণ্য মজুত রেখে দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে তাদের কিছু করার থাকে না। মংলা বণিক সমিতির সভাপতি হাবিব মাস্টার বলেন, রমজান উপলক্ষে কোনোভাবেই যেন দাম না বাড়ে সে জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো ব্যবসায়ীদের ওপর কড়া দৃষ্টি রাখছে।
রাঙ্গুুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। রমজান মাস শুরুতে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চাল, ডাল, তেল, মরিচ ও শাকসবজিসহ অনেক পণ্যের দাম দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন হাটবাজার পরিদর্শন করে জানা যায়, উপজেলার রোয়াজারহাট, রানীরহাট, দোভাষী বাজার, কোদালা বাজার, শিলক, পদুয়া রাজারহাট, ধামাইরহাট, শান্তিরহাট, গোছরাবাজারসহ অধিকাংশ হাটবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এসব বাজারে কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের একাধিক সমিতি রয়েছে। যারা বাজার পরিস্থিতি বুঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় বলে জানা গেছে। ফলে হাটবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চট্টগ্রাম শহরের চেয়ে অনেক বেশি দামে ক্রয় করতে হয়। রমজান মাস শুরুতে বাজারগুলোতে অনেক পণ্যের দাম দ্বিগুণ বাড়িয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন।
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : হাটহাজারীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলছে। বাজার মনিটরিংয়ের একটি কমিটি থাকার পরও ওই কমিটি দায়িত্ব পালন না করায় এ অবস্থা হয়েছে হাটহাজারীতে। এদিকে প্রতিদিন কাঁচাবাজার, মাছ, মাংস, মুরগি ও সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বেশি দামে ক্রয় করেও প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা ওজনে প্রতি কেজিতে ১০০ গ্রাম করে কম দিচ্ছে বলে ক্রেতারা জানান। বর্তমানে বাজারে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও অনেক দোকানে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। আর প্রতিদিন বেড়েই চলছে চিনির দাম।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, গত কয়েক বছরের বাজার দর হার মেনেছে এবার। হাটহাজারীর বিভিন্ন বাজারে চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, সয়াবিন তেল ১১০-১২০ টাকা, ছোলা ৮০-৮৫ টাকা, পেঁয়াজ ২৮-৩০ টাকা, বেগুন ৪০-৪৫ টাকা, ধনেপাতা দেশি ৩০০ টাকা, শসা/ফল ৪০-৪৫ টাকা, মরিচ ৯০-১০০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা, মুরগি ১৪০-১৪৫ টাকা, মাংস (হাড়ছাড়া) ৩৫০ টাকা, (হাড়সহ) ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতারা এসব বাজারে বেশি দামে ক্রয় করে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সাপাহার (নওগাঁ) : শুরু হয়েছে মাহে রমজান। সিয়াম সাধনার জন্য মুসলমানরা এ মাসের অপেক্ষায় ছিলেন। আর নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা যেন অপেক্ষায় ছিলেন অধিক মুনাফা লাভের আশায়। তাই রোজা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাজারগুলোতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার হিড়িক পড়েছে। রোজার প্রথম দিনে উপজেলার বাজারগুলোতে ক্রেতার ঢল নেমেছিল। আর এ সুযোগে আরেক দফয় সব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে বিক্রেতারা। বিভিন্ন হাটবাজারে, চাল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজণীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। ফলে রমজান মাসে বাজার করতে এসে জিনিসপত্রের দাম শুনে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। ত্বরিত্ গতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না হলে চলতি পবিত্র রমজান মাসে ক্রেতাসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হবে। হাটবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর আমদানির অভাব না থাকলেও হঠাত্ করে চাল, আটা, সয়াবিন, রসুন, আদা, চিনি ও গুড়সহ প্রায় সব জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে যে চাল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যে দরে বিক্রি হয়েছে বর্তমানে সেসব দ্রব্যের মূল্য প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে।
সালথা (ফরিদপুর) : ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাটবাজারে গত এক সপ্তাহে চিনি, পেঁয়াজ, ছোলা, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকদফা। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বুধবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চিনি প্রতি কেজি ৭৫-৮০, সয়াবিন ১৩০-১৩৫, আটা ৩৫-৪০, মসুর ডাল ৯০-১০০, খেসারির ডাল ৫৫-৬০, ছোলা ৭৫-৮০, পোলট্র্রি মুরগি ১৫০-১৬০, গরুর গোশত ২৮০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে তরিতরকারি ও বিভিন্ন ধরনের ফলমূলের দাম। আলু প্রতি কেজি ১৫-১৮, বেগুন ৩০-৪০, পেঁয়াজ ৩০-৩৫,পটল ৩২-৩৬, পেঁপে ১৮-২০, খেজুর ৮০-২৫০, আপেল ১৪০-১৬০ টাকা। দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতির কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন দিনমজুর ও সমাজের নিম্নআয়ের মানুষ। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বি হয়েছে বলে ক্রেতারা মনে করছেন। ক্রেতারা আরও জানান আগে কয়েকদিন পরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসাতে বাজারের জিনিসপত্রের দাম ও পণ্যের গুণগতমান ঠিক ছিল। কিন্তু গত বছর সহকারী কমিশনার ভূমি কার্বাইড মিশ্রিত আম ধরার কয়েকদিন পর তাকে অন্যত্র বদলি করানোর পর থেকে এ পর্যন্ত আর কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজার মনিটরিং করেননি। ফলে ব্যবসায়ীরা লাগামহীনভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে।
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) : রমজানের প্রথম দিন থেকে কাঁচাবাজার তথা শাক-সবজি, মাছ-মাংসের দোকানে যেন আগুন লেগেছে। আর এসব দ্রব্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার তদারকি কর্মকর্তা না থাকায় একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী মনগড়া মূল্য নির্ধারণ করে এসব দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি করছে। সরকারিভাবে প্রতিলিটার সয়াবিন তেল ১০৫ টাকা বিক্রি করার কথা থাকলেও তাহিরপুরে প্রতি কেজি সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায় । চিনির দাম প্রতিকেজি ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। ১০ টাকা কেজির আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ টাকায়। কাঁচামরিচ ৪০ টাকা থেকে বেড়ে দ্বিগুণ ৮০ টাকায়। নিম্নমানের খেজুর ৭০ টাকা, আশ্বিনা আম ৮০ থেকে ১২০ টাকা, আদা ৫০ থেকে ৮০, শসা ২০ থেকে ৪০, চাল প্রতি ৫০ কেজি বস্তা মোটা ও চিকন চাল প্রতি বস্তায় বেড়েছে ১শ’ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া আরও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক। ফলে নিম্নআয়ের মানুষ এসব দ্রব্য কিনতে গিয়ে পড়ছে চরম বিপাকে।
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) : বাজার মনিটরিং না থাকায় নাগরপুরে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। উপজেলার সদর বাজারসহ আশপাশের বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না ব্যবসায়ীরা। এতে ক্রেতা সাধারণ প্রতারিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার উপজেলার সদর বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে নিয়ন্ত্রণহীন বাজারের বিভিন্ন অসঙ্গতি চোখে পড়ে। একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে তাদের ইচ্ছেমত পণ্যসামগ্রী বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। জানা যায়, গত একদিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচ ৬০ টাকার পরিবর্তে ৮০ টাকা, ছোলা ৬৫-৭০, চিনি ৬৬-৭০ ও খোলা সয়াবিন লিটার প্রতি ১০৫ টাকা থেকে ১১০, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১১৫ টাকাও বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা তোফায়েল জানান, সরকার কর্তৃক দাম নির্ধারণ করা থাকলেও শুধু মনিটরিংয়ের অভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার। ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী সুধির মণ্ডল বলেন, একদিন আগে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৫০/৬০ টাকা দরে। একদিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা হাসমত আলী, নজরুল ও কাইয়ুম জানান, খুচরা দোকানিরা খোলা সয়াবিন ১১০ থেকে ১১৫ টাকা বিক্রি করছে। এছাড়া পিঁয়াজ, রসুন, আদাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দামও আকাশচুম্বী

Saturday, 16 July 2011

অস্থির মসলার বাজার : এক মাসে পেঁয়াজের দর বেড়েছে ৪১ ভাগ আদার কেজি ৯০, হলুদ ২৮০ টাকা

















অর্থনৈতিক রিপোর্টার
রমজান মাস আসছে—এ সুযোগকে অন্যায়ভাবে কাজে লাগিয়ে গত সাতদিনে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত। আর এক মাসের হিসাবে মূল্যবৃদ্ধির হার ৪১ ভাগ। একই অবস্থা আদা, রসুন, হলুদ ও মরিচের। রাজধানীর খুচরা বাজারে গতকাল এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়। এক মাস আগেও পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ২৬ থেকে ৩০ টাকা। বিক্রেতাদের দাবি, রোজার কারণে চাহিদা বেড়ে গেছে, ফলে বাড়ছে দাম।সরকারি বাজার তদারকি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দেয়া গতকালের বাজার দর তথ্যে জানা গেছে, গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম ৪০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির হার ২৫ শতাংশ বলে জানিয়েছে টিসিবি। সংস্থার বাজার দর পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩২ থেকে ৩৪ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ২৮ থেকে ৩০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজারে গিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা কেজিতে। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৪ টাকা। তবে কারওয়ানবাজারের মূল্যের সঙ্গে হাতিরপুল বাজারের মূল্যে কেজিপ্রতি ২/৩ টাকা তফাত্ রয়েছে। কারওয়ানবাজার থেকে হাতিরপুল বাজারের দূরত্ব বেশি নয়, তারপরও কেন বাড়তি ২/৩ টাকা বেশি মূল্য? এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, কারওয়ানবাজারে পাইকারি মূল্যেই সাধারণত পণ্য বিক্রি হয়। এ কারণে দাম কিছুটা কম। তবে হাতিরপুল বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৮ থেকে ৩৯ টাকা কেজি দরে।এদিকে অস্থির আদা-রসুনের বাজার। টিসিবির বাজার দর তথ্যে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুনের দাম ৭৫ থেকে ৯০ টাকা। তবে গতকাল হাতিরপুল বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, এক কেজি দেশি রসুনের দাম ৯৬ থেকে ১০২ টাকা। টিসিবির দাবি অনুযায়ী, রসুনের দাম কয়েকদিন ধরেই স্থিতিশীল। বাস্তবে দেখা গেছে, গত সাত দিনে প্রতি কেজি রসুনের দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত। এ বিষয়ে টিসিবির প্রধান কর্মকর্তা (সিএমএস ও এসএন্ডডি) রফিকুল ইসলাম জানান, আমদানি করা রসুনের দাম গত ৩ জুলাই সামান্য হ্রাস পায়।ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি ব্যয় বাড়ায় রসুনের দাম বেড়েছে। দেশি রসুনের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে অনেক ব্যবসায়ী বলেন, একশ্রেণীর মজুতদার, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীর কারসাজিতেই ধাপে ধাপে রসুনের দাম বেড়েছে। টিসিবি জানিয়েছে, রাজধানীর বাজারে গত এক মাসে আদার দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশনের অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর তথ্যমতে, এক মাসে আদার দাম গড়ে প্রায় ১৮ ভাগ বেড়েছে। গতকাল কারওয়ানবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। তবে দেশি আদার দাম প্রতি কেজি ৯৫ টাকা। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার দিন বাজারে প্রতি কেজি আদার দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা ছিল বলে জানিয়েছে টিসিবি। সেই হিসাবে আদার দাম বর্তমানে দ্বিগুণ।এক কেজি হলুদের দাম এখন ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। টিসিবি অবশ্য জানিয়েছে, ২৬০ টাকা দরেও বাজারে হলুদ বিক্রি হচ্ছে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি টিসিবির বাজার দর তথ্যে হলুদের দাম উল্লেখ করা হয় ৯৫ থেকে ১১০ টাকা। বর্তমান সরকারের গত আড়াই বছরে হলুদের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৭৫ টাকা।
শুধু পেঁয়াজ, রসুন, আদাই নয়, বর্তমান সরকারের গত আড়াই বছরে শুকনা মরিচ, জিরা, ধনিয়া, এলাচ, দারুচিনিসহ সব ধরনের মসলার দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

Wednesday, 29 June 2011

তিন বছরে পিপিপি : বাস্তবায়ন শূন্য বরাদ্দ ৮ হাজার কোটি টাকা

সৈয়দ মিজানুর রহমান
বাজেটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় বিনিয়োগের ব্যাপক আশাবাদ প্রচার করা হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে পিপিপি নামে ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। চলতি ২০১০-২০১১ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ আছে ৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে এই খাতে আবারও ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের হার শূন্য। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পর পর দু’টি বাজেট বক্তৃতায় পিপিপিকে নতুন খাত হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার পিপিপিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে বরাদ্দ রাখলেও, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ধারণা দেয়া হচ্ছে না। বাজেটের বরাদ্দ কোত্থেকে কিভাবে খরচ হবে তাও বলা হচ্ছে না। এ বিষয়ে এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী গতকাল আমার দেশকে বলেন, পিপিপি যে একেবারে নতুন ধারণা তা ঠিক না। বহু আগে থেকেই পিপিপি’র মাধ্যমে কাজ হয়ে আসছে। তবে বাজেটে যে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে তা নতুন। বাজেটে আগে পিপিপি নামে আলাদা কোনো খাত ছিল না। গত অর্থবছরেই আলাদা খাত হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়।’ কেন পিপিপিতে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া নেই, বরাদ্দের এক টাকাও কেন খরচ হয়নি জানতে চাইলে সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘এটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে। সঠিক নির্দেশনা নেই। ব্যবসায়ীরা জানেন না কিভাবে এই খাতে রাখা বরাদ্দ থেকে টাকা পাওয়া যাবে।’অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিখাতকে নিম্ন বা বিনা সুদে ঋণ অথবা মূলধন সহায়তা হিসেবে দেয়ার জন্য পিপিপি খাতে আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থেকে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠন করার কথা ছিল। এছাড়া স্কুল, হাসপাতাল ইত্যাদি নির্মাণে সহায়তার জন্য ৩০০ কোটি টাকার একটি মূলধন গঠনের কথা ছিল। তবে ২০১০-২০১১ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, পিপিপির এই বরাদ্দ খরচ করা যায়নি। তার পরও তিনি ২০১০-২০১১ অর্থবছরে বাজেটে পিপিপিতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। তবে অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসে একটি টাকাও খরচ করা যায়নি এই খাত থেকে। এরই মধ্যে ২০১১-২০১২ অর্থবছরের বাজেটে পিপিপিতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাজেটে পিপিপিতে ২৩টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিদ্যুত্ খাতে সিরাজগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩২০, মেঘনা ঘাটে ৪৫০, সিদ্ধিরগঞ্জে ৩০০-৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট। এছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ এবং পরিবহন খাতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ভৌত পরিকল্পনা খাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় মার্কেট নির্মাণ, পার্ক উন্নয়ন এবং নতুন আবাসিক এলাকা নির্মাণ, বরিশালে বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়াম নির্মাণ। স্বাস্থ্য খাতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জন্য এম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা এবং বড় হাসপাতালগুলোতে অটোমেশন সার্ভিস প্রবর্তন প্রকল্প।
আগামী অর্থবছরের এডিপিতে আবারও পিপিপির আওতায় ১৬টি প্রকল্প যোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্প ধরা হয়েছে রাজধানীর আশপাশে তিনটি স্যাটেলাইট শহর নির্মাণে। ১৩টি প্রকল্প ঠিক করা হয়েছে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে। এগুলোর মধ্যে আছে চট্টগ্রামে এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ-বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সৌরবিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, খুলনায় ২১০ মেগাওয়াট তাপ-বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, ময়মনসিংহে ৩৬০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প ও ডিপিডিসির সাব-স্টেশন নির্মাণ।